আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (৫ জুলাই) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত ৪৩টি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে দশমিক ৩০ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারে নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে। পণ্যভিত্তিক এই হার পূর্ববর্তী অর্থবছরের মতোই রয়েছে, যা নীতিগত ধারাবাহিকতার পরিচয় বহন করে।
প্রণোদনা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনার পাশাপাশি বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব শর্ত, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং কার্যপ্রণালি অপরিবর্তিত থাকবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে আবেদন নিষ্পত্তি এবং প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি প্রণোদনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দুই দফায় এই প্রণোদনা হ্রাস করে। সে সময় বলা হয়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিমালা অনুযায়ী এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আর কোনো ধরনের রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়া যায় না। ধাপে ধাপে সহায়তা কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছিল যাতে রপ্তানি খাত হঠাৎ চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে। তবে চলতি জুলাই থেকে প্রণোদনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সময়সীমা ছিল। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি কারণে তা পাঁচ মাস পিছিয়ে দেয়। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্কারোপ, স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ভারতের বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে শিল্প খাতে অস্থিরতা। অন্তর্বর্তী সরকার আগামী নভেম্বর থেকে প্রণোদনা তুলে দেওয়ার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করলেও বর্তমান সরকার সেখান থেকে সরে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘে আবেদন করেছে সরকার।
প্রণোদনার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী খাত হলো তৈরি পোশাক ও বস্ত্র। দেশি সুতা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রপ্তানি করলে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রণোদনা মিলবে, যা আগে ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের জন্যও প্রণোদনা বহাল রয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ থাকছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি কয়েক বছর ধরে কমলেও বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকবে। পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ এবং পাট সুতায় ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ, বাইসাইকেল রপ্তানিতে ৩ শতাংশ ও আসবাব পণ্যে ৮ শতাংশ প্রণোদনা বহাল থাকবে। হিমায়িত চিংড়ি, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক পণ্য; হাতে তৈরি পণ্য যেমন হোগলা, খড়, আখ বা নারকেলের ছোবড়া; তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট; গরু ও মহিষের নাড়ি, ভুঁড়ি, শিং ও রগ; কাঁকড়া ও কুঁচিয়া এবং আগর ও আতর ইত্যাদি পণ্য রপ্তানিতেও নগদ সহায়তা আগের মতোই থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




