বৈশ্বিক বিদ্যুৎ খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ২০২৫ সালে ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে এখন চীনের দখলে বাজারের প্রায় অর্ধেক অংশ। বিদ্যুতের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি গ্রিডের নমনীয়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ জরুরি হয়ে উঠছে — ফলে স্টোরেজ প্রযুক্তির দিকে ঝোঁক বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাটারি স্টোরেজ এখন অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে চীন ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে দেশটি এখন বিশ্বের মোট স্টোরেজ ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, স্টোরেজ প্রযুক্তির খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির দাম ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় বিভিন্ন দেশ এখন বৃহৎ পরিসরে স্টোরেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশই চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এসেছে, যেখানে সরকারি নীতিসহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষমতার সুবিধা একত্রিত হয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার মতো অঞ্চলগুলোও স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সৌর বিদ্যুতের অনুপস্থিতিতে ব্যাটারি স্টোরেজ গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে স্টোরেজ খাতটি এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, যদিও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবুও ২০২৫ সালের এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে দেয় যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি রূপান্তরে ব্যাটারি স্টোরেজ আর নিছক বিকল্প নয়, বরং মূলধারার সমাধান হয়ে উঠেছে।




