প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্র্যাকের প্রোডাক্টিভিটি ল্যাব ১২০,৬২০ জন কর্মচারীর ওপর তিন প্রান্তিক জুড়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। দেখা গেছে, এআই গ্রহণের পরিণতির যে স্তরটিকে অনেকে সর্বোত্তম বলে মনে করেন, তা হয়তো সবার জন্য আদর্শ নয়। বরং অনেকের ক্ষেত্রে মাঝারি মাত্রার এআই ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, যেখানে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণের প্রয়োজন পড়ে না।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তাদের এআই কৌশল এমনভাবে সাজাতে চায় যেন প্রতিটি কর্মী এআই-এর সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী হয়ে ওঠে। তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা এআই ব্যবহারই করেন না বা খুব কম করেন, তাদের তুলনায় যারা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে এআই ব্যবহার করেন, তাদের উৎপাদনশীলতা এবং কর্ম-স্বাস্থ্য সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। এই স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু যখন এআই কর্মপ্রবাহের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে যায়, তখন এই হার প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়, যা প্রায় এআই-বিমুখ কর্মীদের সমান।

গবেষণাটি ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ১,০০৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত হয়। তথ্যে দেখা যায়, ২৭ শতাংশ কর্মী এআই ব্যবহার করে কেবল তথ্য অনুসন্ধান ও সংক্ষিপ্তকরণের জন্য, যা প্রথম স্তর। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছেন ১৪ শতাংশ কর্মী, যারা খসড়া তৈরি, ধারণা জেনারেশন এবং রুটিন কাজ সম্পাদনে এআই ব্যবহার করেন। তবে তৃতীয় স্তরে, যেখানে এআই দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, সেখানে পৌঁছেছেন মাত্র ২ শতাংশ কর্মী। সামগ্রিকভাবে, মোট কর্মীদের ৪৩ শতাংশ এআই ব্যবহার করেন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়।

দ্বিতীয় স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ দূর করে। যেমন, একজন বিক্রয়কর্মী পাঁচটি সিস্টেম থেকে তথ্য ম্যানুয়ালি সংগ্রহ না করে একটি প্রম্পটেই কোটেশন তৈরি করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই স্তরেই মনোযোগ দেওয়া। তবে এআই ব্যবহারের মাত্রা বাড়ালেই যে লাভ হবে, তা নয়। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়ে খরচ এবং কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করছে।

অ্যাক্টিভট্র্যাকের নিজস্ব উদাহরণে দেখা গেছে, তাদের অপারেশন টিম খরচ বাড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখে কর্মীরা সহজ কাজেও সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা তৈরি করে, যাতে কর্মীরা কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক মডেল বেছে নেয়। সমস্যাটি আউটপুটে নয়, বরং প্রতিটি কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী টুল ব্যবহার করার প্রবণতায়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এআই সরঞ্জাম চালু করার আগে কর্মপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা এবং ছোট ছোট সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এআই গ্রহণ একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, কারণ ৮২ শতাংশ কর্মী একবার এআই ব্যবহার শুরু করলে তা চালিয়ে যান। তাই লক্ষ্য নির্ধারণের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভাবতে হবে যে তারা কোন স্তরের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে চায়। সঠিক টুল, সঠিক কাজ এবং সঠিক স্তর নির্ধারণই এআই কৌশলের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত, যাতে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং উৎপাদনশীলতা প্রকৃত অর্থে বাড়ে।