গত মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানায় একটি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে—লতা বেগম, তার স্বামী কাওসার হক ও তার বাবা আলমাছ মিয়া। আসামিদের মধ্যে লতা বেগম পলাতক রয়েছেন, অপর দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন পাইকারদী এলাকায়। ওই এলাকার জহিরুল হক ও সায়েবা বেগম দম্পতির দুই মাস বয়সী দ্বিতীয় সন্তানকে লক্ষ্য করে এই নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত লতা বেগম জহিরুল হকের বড় ভাইয়ের স্ত্রী। দুই জায়ের মধ্যে মনোমালিন্য ও আর্থিক বিরোধকে এই ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন মামলার বাদী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা সায়েবা বেগম লক্ষ্য করেছিলেন, তিনি যখনই ঘরের বাইরে যান, তখনই শিশুটি জোর কান্না শুরু করে। বিষয়টি বোঝার জন্য গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি একটি মুঠোফোন গোপনে জানালার কাছে রেখে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করেন এবং বাইরে চলে যান। পরে ভিডিওতে দেখা যায়, মা বেরিয়ে যাওয়ার অল্প সময় পরেই লতা বেগম ঘরে প্রবেশ করে শিশুটির একটি পা মোচড় দেন। এ সময় শিশুটি আর্তনাদ করে কাঁদতে থাকে। এরপর ঘর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান লতা বেগম।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, পায়ে ফাটল ধরা পড়েনি, তবে আঘাতের কারণে শিশুটি ব্যথা পাচ্ছে।
শিশুটির বাবা জহিরুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করেছি। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার সন্তান এখন সুস্থ আছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হতে পারে। তবে মামলার বাদী রিজা আক্তার বলেছেন, শিশুর প্রতি এমন নৃশংসতা উপেক্ষা করা যায় না। তিনি জানান, পারিবারিক সম্পর্ক নষ্টের ভয়ে অভিযোগ করতে চাইছিলেন না তারা, কিন্তু সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, লতা বেগম এর আগেও একই কারণে শিশুটিকে নির্যাতন করে থাকতে পারেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। অন্য দুজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



