ঢাকার একটি আদালত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। বুধবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হয়। ফলে বিচারক আগামী ২০ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এ পর্যন্ত মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ১৮ বার বদলানো হয়েছে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। ঘটনার পরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তী সময়ে ওসমান হাদির মৃত্যুতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। প্রাথমিকভাবে মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত শেষে ডিবি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যার মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদও রয়েছেন। তবে মামলার বাদী আদালতে ওই অভিযোগপত্রের প্রতি আপত্তি জানান। বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সিআইডি এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে একের পর এক সময় পিছিয়ে আসছে।

অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ পাওয়ার পর সিআইডি এখন পর্যন্ত ১৮ বার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ বুধবার ছিল প্রতিবেদন জমার দিন, কিন্তু তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি তদন্তকারীরা। ফলে নতুন তারিখ ধার্য করে পুনরায় সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ওসমান হাদির দেয়া জবানবন্দি ইতিমধ্যে আমলে নিয়েছেন আদালত। তবে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। সিআইডি কেন বারবার প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তা নিয়ে আইনজীবী মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।