শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানা এলাকায় এক নারীকে তার স্বামীর উপস্থিতিতে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আজ মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভুক্তভোগীর স্বামীকেও হেফাজতে নিয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই গৃহবধূর স্বামীকে পূর্বপরিচিত কিছু ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যায় বলে নড়িয়া থানা সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তরা স্বামীকে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে তাকে দিয়ে ফোন করিয়ে স্ত্রীকে সেখানে আসতে বলে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারীকে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এগিয়ে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ভোরে অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে সকালে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬) নামের তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামীর সাথে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়ে এক নারীকে ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের শয্যায় বসে জানান, গত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশের একটি গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। রাত ১০টার দিকে তাকে ফোন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলে। গিয়ে তিনি দেখেন, তার স্বামীকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। আরেকটি গাছের আড়ালে নিয়ে তার মুখ চেপে দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। তিনি বাঁচার জন্য অনেক কাকুতি-মিনতি করেছেন, পায়ে ধরেছেন, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি বলে জানান তিনি।