যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মিচ ম্যাককনেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও গুঞ্জন ক্রমশ বাড়ছে। রিপাবলিকান এই নেতা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ছয় সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও এখনও সিনেটে ফেরেননি। তার দপ্তর জানিয়েছিল, পতন ও সামান্য নিউমোনিয়ার কারণে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু দীর্ঘ এই অনুপস্থিতি এবং তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অভাব জল্পনা-কল্পনাকে উস্কে দিচ্ছে।
আগামী সপ্তাহে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্র্যামের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। ওয়াশিংটন ও সাউথ ক্যারোলাইনা রাজ্যে এই দুটি অনুষ্ঠানে ৮৪ বছর বয়সী ম্যাককনেল যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এদিকে, ম্যাককনেলের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, সিনেটর তার দায়িত্বরত ওয়াশিংটন ও কেন্টাকির কাজকর্ম নিয়ে স্টাফদের সাথে বৈঠক করছেন। তবে কবে তিনি সরাসরি কাজে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি।
কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার, যিনি একাধিকবার ট্রাম্প-সমর্থিত এই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব দিচ্ছেন, প্রকাশ্যেই ম্যাককনেলের দীর্ঘ নিরবতা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, একজন কর্মচারীর মতো সিনেটর হিসেবে তার দায়িত্ব ভোটারদের কাছে। যখন কেউ এক মাস ধরে হাসপাতালে থাকেন এবং সব ভোটে অনুপস্থিত থাকে, যা তার কাজ, তখন যে কোনো নিয়মিত কর্মীর মতোই তাকে নিয়োগকারী বা ভোটারদের বোঝানোর দায়িত্ব নিতে হবে যে আসলে কী ঘটছে। বেশিয়ার স্পষ্টভাবেই আরও বলেন, 'আমি কোনো কিছু শুনতে পাইনি। কোনো ইমেইল, কোনো চিঠি, কোনো ফোনকল, কোনো ভিডিও... একদম কিছুই না।' এই নীরবতা গুজব ও জল্পনা-কল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ১৪ জুন ম্যাককনেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সিএনএনের সংগ্রহ করা ভিডিওতে সেদিন তার ওয়াশিংটন ডি.সি.-র বাসভবন থেকে স্ট্রেচারে করে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়, তবে ব্যক্তির চেহারা দেখা যায়নি। কয়েক সপ্তাহ নীরব থাকার পর গত ১২ জুলাই, অর্থাৎ সেনেটর গ্র্যামের মৃত্যুর এক দিন পর, ম্যাককনেলের দপ্তর আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, পতনের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ম্যাককনেলের কোনো হাড় ভাঙেনি, মস্তিষ্কে আঘাত বা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, টিউমার বা রক্তক্ষরণও হয়নি। তবে তার 'সামান্য নিউমোনিয়ার' চিকিৎসা চলছে। এর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সাবেক মার্কিন পরিবহণমন্ত্রী ইলেইন চাও-এর সঙ্গে হাসতে হাসতে তোলা একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। যদিও ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির গুজব ওঠে, তবে বিশেষজ্ঞরা তা নাকোচ করে দিয়েছেন।




