পদ্মা নদীতে এক নাটকীয় ঘটনায় ফেরি থেকে পড়ে গিয়েও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন এক নারী। শনিবার সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘কুমিল্লা’ ফেরির ডেক থেকে নদীতে পড়ে যান মোসা. লাইজু (৩৯) নামের ওই নারী। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর ফেরির ডেক থেকে তিনি নদীতে পড়ে যান বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই ফেরির মাস্টার পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। একইসঙ্গে দুই ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িতেও খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই নারীর সন্ধানে নদীতে অভিযান চালান। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁরা তাকে খুঁজে পাননি।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ভোররাতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকা থেকে লাইজুকে উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া চার স্থানীয় যুবক ভাসমান কচুরিপানার ওপর ভর করে ভেসে আসা নারীটিকে দেখতে পান। তাঁরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের হেফাজতে দেন। পরে নৌ পুলিশ তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, ফেরি থেকে পড়ে যাওয়ার পর নারীটির একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগের ভেতরে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। লাইজু বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক গাজীর মেয়ে এবং তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকায় বসবাস করেন। তার ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনে কল করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নৌ পুলিশ জানতে পারে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোতোয়ালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী বলেন, রোববার সকাল ছয়টার দিকে ওই নারীকে ফাঁড়িতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ফাঁড়িতে এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তার বোন মোসা. পলি খাতুন ও মামা আমিনুল ইসলামের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ফেরি থেকে পড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভাসমান অবস্থায় বেঁচে থাকার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।