জাতীয় সংসদে সম্পন্ন হওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই ভোটগণনা শেষ হয়েছিল। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট অর্জন করে বিজয়ী হন। অন্যদিকে, ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রতিনিধিত্বকারী প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এই ফলাফলের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই বিজয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায় থেকে শুভেচ্ছার বন্যা শুরু হয়। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয় নতুন রাষ্ট্রপ্রধানকে। পাশাপাশি দেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও উষ্ণ অভিনন্দন জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তাটি ভোটের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পোস্ট করা হয়।

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বার্তায় লিখেছেন যে, মির্জা ফখরুল একজন শিক্ষাবিদ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং সজ্জন ব্যক্তি—এই পরিচয়ে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির গৌরব ও মর্যাদাকে আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এমন গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের হাতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদটি থাকার ফলে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

বার্তার অন্য অংশে অধ্যাপক ইউনূস আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত এবং তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীর ও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর মধ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। বিশেষত সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার দীর্ঘদিনের অভ্যাস তাঁকে এ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র, সম্মানজনক ও অনন্য অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে নোবেলজয়ী এই ব্যক্তি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন।

ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার পর সংসদ ভবনের ভেতরে একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের কোলাকুলির দৃশ্য উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অধ্যাপক ইউনূস তাঁর শুভেচ্ছাবার্তার শেষাংশে আশা প্রকাশ করেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হবে—এই প্রত্যাশা তিনি পোষণ করেন। পাশাপাশি তিনি নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।