ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম পরিচিত প্রযুক্তি বিশ্লেষক ড্যান আইভস সম্প্রতি একটি বড় ক্যারিয়ার পরিবর্তন করেছেন। প্রায় আড়াই দশক ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজে কাটানোর পর তিনি ইয়ার্কভিল সিকিউরিটিজের সাথে যৌথ উদ্যোগে 'ইয়ার্কভিল আইভস' নামে একটি আধুনিক মার্চেন্ট ব্যাংক চালু করেছেন। নিজের এই পদক্ষেপকে তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রচারিত দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করেন। আইভস বলেন, 'আমি যা প্রচার করেছি তার একটি উদাহরণ এখন নিজেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে যত চাকরি নেবে তার চেয়ে বেশি তৈরি করবে, তা আমি সবসময় বলেছি। এই বিপ্লব না ঘটলে আমি আজ এমন কিছু করতে পারতাম না।'
নতুন এই ব্যাংকের ধারণা সম্পর্কে আইভস জানান, এটি ১৯৯০-এর দশকের থমাস ওয়েইসেল ও জেফরিজের মতো প্রতিষ্ঠানের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শুধু গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ নয়, নিজস্ব মূলধন দিয়ে লেনদেনেও অংশ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'অনেক ব্যাংক নিজের টাকা বিনিয়োগ করে না। মার্চেন্ট ব্যাংক আর সাধারণ বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে এই পার্থক্যই মূল বিষয়।' গত তিন দশকে ওয়াল স্ট্রিট থেকে এই মডেলটি প্রায় হারিয়ে গেলেও তিনি ফাঁকটি পূরণ করতে চান। বড় প্রতিষ্ঠান যেমন গোল্ডম্যান স্যাকস, মরগ্যান স্ট্যানলি ভোলকার নিয়মের আওতায় নিজস্ব বিনিয়োগ সীমিত করে রেখেছে। অন্যদিকে এভারকোর, লাজার্ডের মতো বুটিক ফার্মগুলি স্বাধীনতার ওপর জোর দেয়, কিন্তু নিজেদের ব্যালান্স শিট ব্যবহার করে না। আইভসের পরিকল্পনা হলো গবেষণা, চুক্তি পরামর্শ এবং নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ—সবই একই ছাদের নিচে আনা। তবে তিনি জানান, গবেষণা ও ব্যাংকিং বিভাগের মধ্যে প্রচলিত 'চাইনিজ ওয়াল' বজায় থাকবে।
ব্যক্তিগত প্রেরণা সম্পর্কে আইভস বলেন, দীর্ঘদিন অন্যদের কোম্পানি বিশ্লেষণ করলেও নিজে কিছু নির্মাণ করার তাগিদ অনুভব করেছিলেন। 'একজন বিশ্লেষক হিসেবে আমি সবসময় কোম্পানি নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু নিজে কিছু তৈরি করিনি।' তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের অর্থ উপার্জনে সহায়তা এবং প্রধান নির্বাহীদের গল্প গঠনে ভূমিকা রাখলেও নিজের কিছু করার ইচ্ছা তাকে পিছু ছাড়েনি।
নতুন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ক্লায়েন্ট সম্পর্কে আইভস বলেন, এনভিডিয়া ও হাইপারস্কেলারদের মতো বড় কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই প্রচুর মনোযোগ পাচ্ছে, কিন্তু অনেক ভালো কোম্পানি অর্থায়নের অভাবে পড়ে আছে। ডাভোস বা মিলকেন সম্মেলনে তিনি 'একটি ফাঁক' দেখেছেন, যেখানে অনেক কোম্পানি অংশীদার খুঁজছে কিন্তু কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছে না।
আইভসের এই সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাবও রয়েছে। গত দশকে বাবা-মা উভয়কে হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে ঝুঁকি নিতে শিখিয়েছে। বাবার আলঝেইমার ও মায়ের পারকিনসনের যন্ত্রণা তাকে কাজ ও জীবনের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার বয়স এখন ৫১, কিন্তু এই দুঃস্বপ্নের পর আমি ৪০ বছর বয়সের চেয়ে ভিন্ন চোখে জীবন দেখি।'
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গে আইভসের মতামত আগের মতোই ইতিবাচক। তিনি বলেন, 'এআই-এর একটি পিআর সমস্যা আছে। সাধারণ মানুষ মনে করে এটি চাকরি কেড়ে নেবে এবং বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেবে।' তবে আগামী বছরে চাকরির বাজারে কিছু disruption আসতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবুও তিনি 'ডিস্টোপিয়ান' বর্ণনার চেয়ে বাস্তববাদী। তাঁর মতে এআই এখন তৃতীয় ইনিংসে রয়েছে এবং এর পরিকাঠামো তৈরি আরও ২০-৩০ বছর চলবে। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীরা এখনও আবির্ভূত হয়নি। তিনি এই সময়কে ১৯৫৫ সালে লাস ভেগাস স্ট্রিপ নির্মাণের সাথে তুলনা করেন।
আইভসের পোশাকের প্রতি অনুরাগও তার ঝুঁকি নেওয়ার দর্শনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, 'কখনও কখনও আপনি মনে করেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন অন্য পথ নেওয়া উচিত ছিল। তবে আমি এভাবে জীবনযাপন করতে চাই না।' তিনি যোগ করেন, এটি ইনস্টাগ্রাম ছবির জন্য পাহাড় থেকে লাফানোর মতো নয়, বরং হিসাবকৃত ঝুঁকি নেওয়ার ব্যাপার।
ইয়ার্কভিলের সাথে তার অংশীদারিত্বের একটি বিশেষ দিক হলো, ইয়ার্কভিল আমেরিকার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থ জগতের সাথে যুক্ত হয়েছে—ট্রুথ সোশ্যাল ফান্ডের বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে। তবে আইভস দাবি করেন, এই সম্পর্ক আগের এবং ইয়ার্কভিল আইভস বা ইয়ার্কভিল সিকিউরিটিজের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই। তিনি বলেন, 'আমি তাদের ব্যক্তিগতভাবে কয়েক দশক ধরে চিনি।'


