যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ এক গণমত জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৯ শতাংশই মনে করেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িয়েছে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী—তা নিয়ে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রতি দশজনে প্রায় চারজন একই মত পোষণ করেছেন।
জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত মাসের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি। তবে যুদ্ধ নিয়ে অস্পষ্টতা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস অবশ্য দাবি করেছেন, জনমত জরিপের ভিত্তিতে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন না; তাঁর মূল লক্ষ্য ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে বাধা দেওয়া।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যান্য যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় এটি অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার পক্ষে ছিলেন, আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় সমর্থন ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। বর্তমানে যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
অর্থনীতিতেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম চার ডলারের বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় তিন ডলার। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, ‘কেন আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালাম, সেটাই পরিষ্কার নয়। আমার কোনো ধারণা নেই।’ তিনি জানান, উপসাগরীয় যুদ্ধে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ভূমিকার কারণে তিনি রিপাবলিকান হয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর সমর্থন কমে গেছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। রিপাবলিকান বিশ্লেষক অ্যালেক্স কোনান্টের মতে, অর্থনীতির বেহাল দশা ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন করে তুলছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবেন না; তিনি ধারণা দিয়েছিলেন ইরান যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলবে না। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে, যদিও ট্রাম্প বারবার বলেছেন এ যুদ্ধ ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো নয়।
জর্জিয়ার আরেক বাসিন্দা রায়ান অ্যান্ডারসন, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগে দেশের মানুষের সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত। ইসরায়েল আমাদের মিত্র, ঠিক আছে। কিন্তু এ দেশেই অনেক মানুষ আছেন যাদের এখন সাহায্য প্রয়োজন।’ জরিপের ফলাফলে ত্রুটির সম্ভাব্য সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।




