২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হওয়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সৈনিকেরা তিন দফা দাবি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেনাবাহিনীর বরখাস্ত সার্জেন্ট মো. পলাশ চৌধুরী। তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ওই সময়ে শত শত সাধারণ সৈনিক অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, নির্যাতিত ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনের চাকরি গেছে। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অনেককে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে। এর ফলে চাকরিচ্যুত সৈনিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। আরও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিষয় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে চাকরিচ্যুত সাধারণ সৈনিকেরা এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের জন্য কোনো পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন না হওয়াকে বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেন পলাশ চৌধুরী। তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠনের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ৪৫০ সৈনিককে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সৈনিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সব চাকরিচ্যুতির ঘটনা তদন্তে স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন করতে হবে। পলাশ চৌধুরী বলেন, দুই বছর ধরে তারা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি নিয়ে আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। চাকরিচ্যুত সৈনিক মো. রাকিব হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তারা বারবার সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে আসছেন। তবে তাদের দুর্ভোগ নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।