লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত রোববার রাতে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণার মাত্র একদিন পর, সোমবার রাতে ১৬ জন নেতা তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিদ্রোহী নেতৃবৃন্দ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের পদত্যাগপত্র পঠিয়েছেন।

পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন ৬ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১০ জন সদস্য। নতুন কমিটিতে আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমানকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিন দিনের ভিতর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই এই নাটকীয়তা ঘটে।

নেতৃবৃদের অভিযোগ, কমিটিতে দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় তাঁরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। পদত্যাগকারী যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নতুন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় দলের দুঃসময়ের সংগ্রামী নেতৃত্বরাই উপেক্ষিত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দের কাছেও সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হবে।

অপর যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমও অনুরূপ অভিযোগ তোলে বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে যাঁরা দলের জন্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগকারীদের একটি তালিকা পেয়েছেন। তিনি এও স্বীকার করে বলেন যে, দল বড় হওয়ার কারণে যোগ্যতা থাকলেও সবাইকে কাঙ্ক্ষিত পদ দেওয়া কখনই সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সৃষ্ট জটিলতা ও ভুল-বোঝাবুঝির নিরসন হবে। নতুন কমিটির নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বিদেশে থাকলেও প্রস্থানের আগে ও পরে তারা যুবদলের সক্রিয় দায়িত্বে ছিলেন এবং অনেক আগেই তাঁরা দেশে ফিরে এসেছেন।