রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট—ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের এখন এগিয়ে আসা উচিত। তাঁদের উচিত অকপটে নিজেদের অবস্থান স্বীকার করে জাতির সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তিনি বলেন, ‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য, ঐক্যবদ্ধ করার জন্য, তাঁরা যেন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে লালন করেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ধারণ করেন; গণতন্ত্রের বাংলাদেশকে লালন করেন, গণতন্ত্রের বাংলাদেশকে ধারণ করেন—এটাই আমার কথা।’

জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ঐক্য চাইলেও মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। সবার অবদানে বাংলাদেশ আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রক্ষায় যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের অবদানও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় খেতাবপ্রাপ্ত ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিয়ে থাকে। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ দেওয়া বা বিশেষ অবদান রাখা সদস্যদের কোনো ধরনের খেতাব বা সম্মাননা দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, টাকাটা বড় কথা নয়, সম্মানটাই বড়।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদানের কথা তুলে ধরে আহমেদ আযম খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে বিভিন্ন বাহিনী ও রেজিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পুনর্গঠিত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পেশাদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। এতে কবি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।