ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশে আগামী এক শতাব্দীতেও কোনো গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হবে না। তাঁর মতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেষবারের মতো সাধারণ মানুষ তাদের জীবন বাজি রেখেছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা দেখেছে যে এই আন্দোলন কতিপয় ব্যক্তির সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে এবং দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হিজাব পরা ও না পরা নারীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষিত হলো না? মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল এবং কেন ১৯৭১ ও ২০২৪ কে মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো—এসব প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আলোচনায় রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনের পর দেশের মানুষ জাতিগতভাবে প্রতারিত হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরেও সেই প্রতারণার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সতর্ক থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের বিভাজনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, কেউ কয়েকটি আসনের জন্য বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ সংস্কারের অজুহাতে জামায়াতের দিকে চলে যাচ্ছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও তা পরে একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমিত করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব সভাপতির বক্তব্যে বলেন, চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে জনগণের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গঠনের কাজ এখনও উপেক্ষিত রয়ে গেছে। সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে বলে তিনি সতর্ক করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, তার চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার পূরণে বাংলাদেশের সামনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি বিরল সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার ও সিরাজ মিয়া প্রমুখ।