ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণের ঘোষণা প্রদান করেছেন। নির্বাসিত অবস্থায় থাকা দলের অন্যান্য নেতাদেরও তিনি একত্রে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এই ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে বাস্তব কোনো পরিকল্পনার চেয়ে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করে তোলার একটি কৌশল হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ভিন্ন মন্তব্যে বলেছেন, শেখ হাসিনা কেবল ফাঁসির রায় বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই দেশে ফিরবেন। আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আদালতে ইতোমধ্যে রায় প্রদত্ত হয়েছে। এখন সরকারের কর্তব্য যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।
ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও গোপনীয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। তার এই অবস্থানকে ঘিরে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে: তিনি কি নির্বাসিত, নাকি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন? এ বিষয়ে একটি দ্বিধা বিরাজমান, কারণ এর আগেও তিনি নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন।
উল্লেখ্য, স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপে গোলপোস্টের অপরাজেয়তা বা ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের পরিসংখ্যানের মতো ভিন্ন ভিন্ন সংবাদও গতকাল পাঠকদের নজর কেড়েছে। তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনাই ছিল দিনের অন্যতম চর্চিত বিষয়।




