জনগণের চাহিদা ও তরুণ প্রজন্মের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশ পরিচালনা বা সংস্কার করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-সংকট নিরসন, গণভোট বাস্তবায়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা–২০২৬’–পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এর আগে তাঁর নেতৃত্বে পৌরবাজার এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা বের করা হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কোর্ট বিল্ডিং সড়কে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপি সরকারের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেন, ‘প্রিয় বিএনপি, মনে রাখবেন, এই তরুণ প্রজন্মের বিপক্ষে গিয়ে আপনারা যদি মনে করে থাকেন যে আপনারা দেশটাকে সুপথে পরিচালিত করতে পারবেন, আপনারা সংস্কার করতে পারবেন, এই জনগণের বিপক্ষে গিয়ে, তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন।’
নির্বাচন ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের পর এবার আমরা আরেক ধরনের মেকানিজম দেখলাম। এবারেও ভোট চুরি হয়েছে, তবে সেটা ফল প্রকাশের পরে। আমাদের দেশের ৭০-৮০ পার্সেন্ট মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ ছিল, কিন্তু আমরা দেখলাম নির্বাচনের পরে এই ভোটটাকে দিনদুপুরে চুরি করে ফেলেছে। সুতরাং জুলাইয়ের আগেও ভোট চুরি ছিল, তবে সেটা ভোটের আগে, ফল প্রকাশের আগে। আর জুলাইয়ের পরেও ভোট চুরি থেকে গেছে, তবে সেটা দিনদুপুরে ফল প্রকাশের পরে।’
বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা বলেছিলেন, ১ কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। ১ কোটি দূরে থাক, ১ লাখ কর্মসংস্থানও করতে পারেননি, ৫০ হাজার করতে পারেননি, এমনকি একজনের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেননি। বেকার যুবকেরা এখনো সিভি হাতে ঘুরছে।’ বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণের হাতে বিদ্যুতের পরিবর্তে হারিকেন আর মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন, দেশে লোডশেডিং নাই। লোডশেডিং নাই সেটা সত্য, তবে তা শুধু আপনার বাসায় আর অফিসে। বাইরে এসে জনতার কাতারে দাঁড়ালে বুঝবেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা পুরোনো খেলায় নতুন খেলোয়াড় হতে আসিনি।’ তিনি বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশে তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ইউসুফ রেজা এবং নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদে প্রকৌশলী তানভীরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাঁদের পক্ষে ভোট ও জনসমর্থন কামনা করেন।
পার্বত্য বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার ও হাতিয়ার বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় সংকটে সরকারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। সরকার একধরনের নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্যাদুর্গত, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াক।’ সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।




