প্রাচীন রোমান সভ্যতায় একজন মানুষ বছরে প্রায় ২০ লিটার অলিভ অয়েল গ্রহণ করতেন, অর্থাৎ প্রতিদিনের হিসাবে যা দাঁড়ায় চার টেবিল চামচের মতো। আধুনিক ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসেও দৈনিক এই পরিমাণ তেল রাখার রীতি প্রচলিত। গবেষকেরা বলছেন, এই অভ্যাস মস্তিষ্কের বয়সজনিত ক্ষয় ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন ব্যাখ্যা করেন, দেহের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত নানা জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিশিস (আরওএস) তৈরি হয়, যা ত্বক থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত বয়সের ছাপ ফেলে। প্রদাহও এক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
অলিভ অয়েলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান এই দুই সমস্যারই মোকাবিলা করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আরওএসের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয় এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে বয়সজনিত পরিবর্তনের গতি মন্থর হতে পারে। তদুপরি, ভিটামিন এ, ই, কে এবং লুটিনের মতো পুষ্টি উপাদান শোষণে কিছুটা তেলের প্রয়োজন হয়, যা অলিভ অয়েল পূরণ করতে পারে এবং এসব উপাদানও মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।
স্মৃতিভ্রমের প্রধান কারণ আলঝেইমারস রোগে মস্তিষ্কে ক্ষতিকর টাউ প্রোটিন জমা হয়। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল গ্রহণের অভ্যাস এই টাউ প্রোটিন জমে যাওয়া প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রচলিত রান্নার বেশির ভাগ পদ্ধতিতে অলিভ অয়েল ব্যবহার সমীচীন নয়, কারণ এটি কম তাপমাত্রায় ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে। তাই এটি কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কম আঁচে এবং দশ মিনিটের মধ্যে রান্না হয় এমন পদ, সালাদ বা ভর্তা মাখানো, ডিম পোচ বা ডিম ভাজি তৈরি এবং সতে (সাঁতলানো) রান্নায় এই তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার শেষে বাগাড় দেওয়ার সময়ও এটি কাজে লাগানো যায়।
স্বাস্থ্যগুণ বিবেচনায় প্রতিদিন সব ধরনের তেল মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচের বেশি গ্রহণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেন চিকিৎসক। অন্যান্য তেল বেশি খেলে হিসাব করে অলিভ অয়েলের পরিমাণ কমাতে হবে। শুধু অলিভ অয়েলই নয়, গাঢ় সবুজ শাক, বিভিন্ন বাদাম, ডাল, শিম ও মটর জাতীয় খাবারও মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই এগুলো বেশি খেয়ে অল্প অলিভ অয়েলেও সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও চর্বিযুক্ত খাবারের আধিক্য অলিভ অয়েলের উপকারিতা পুরোপুরি নষ্ট করতে পারে। শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলেও জোর দেন বিশেষজ্ঞ।
এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলকে সবচেয়ে উপকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মানসম্মত ব্র্যান্ড নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ফার্স্ট কোল্ড প্রেসড’ বা ‘কোল্ড প্রেসড’ লেবেলযুক্ত তেল ভালো। যেসব অলিভ অয়েলের ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ একক, সেগুলো বেছে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।


