সম্প্রতি তরুণ সমাজে ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন এটি সাধারণ সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিপজ্জনক। গত ২০ মে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে মাদকবিরোধী এক অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার কার্যকর বা নিরাপদ বিকল্প নয়’।

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, ই-সিগারেটকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটি সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া একটি ভুল ও বিষাক্ত ধারণা। প্রথম দিকে হয়তো ধারণা করা হয়েছিল, যারা ধূমপান ত্যাগ করতে চান তাদের জন্য ই-সিগারেট একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। দেখা যাচ্ছে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারীরা ধূমপান ছাড়তে পারছেন না, বরং ‘ডুয়াল এডিকশন’ বা দ্বৈত আসক্তির শিকার হচ্ছেন।

ই-সিগারেটের ভেতর নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল, ভেজিটেবল গ্লিসারিনসহ একাধিক রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো যখন উত্তপ্ত হয়ে বাষ্প বা ভেপারে পরিণত হয়, তা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে ফুসফুসের টিস্যুতে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ই-সিগারেটে নিকেল, সীসা ও ক্রোমিয়ামের মতো বিভিন্ন ভারী ধাতুর কণা বিদ্যমান। এই ধাতব কণাগুলো দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এটিকে নিরাপদ বা ক্ষতিহীন মনে করার কোনো কারণ নেই বলেই মত তাঁর।

সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। তিনি ই-সিগারেটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং তরুণদের এই ধরনের পণ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, ই-সিগারেটের প্রতি আগ্রহী হওয়ার পরিবর্তে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এই অনলাইন সভাটি ছিল প্রথম আলো ট্রাস্টের চলমান মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা কার্যক্রমের একটি অংশ। বিনামূল্যে আয়োজিত এ সভায় সাধারণ মানুষ সরাসরি যুক্ত হয়ে বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ই-সিগারেটের বাজার সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তরুণদের কাছে এর আকর্ষণ বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অনেক দেশেই ভ্যাপিংয়ের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।