রাজধানীর ঝিগাতলার বাসায় বৃষ্টির কারণে আটকে পড়া দীপ্তর মাথায় ঘুরছে চাকরির চিন্তা। পুরোনো সিভি নিয়ে বসে থাকলেও কোথাও সাড়া মিলছে না। বন্ধুরা মজা করলেও তিনি জানেন, হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজারো তরুণের একই অপেক্ষা। চাকরির বাজারে এখন শুধু যোগ্যতা থাকলেই হচ্ছে না, সেই যোগ্যতা কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিভির চিরচেনা খোলস বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
একসময় সিভি ছিল কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ববর্তী চাকরির তালিকা। বর্তমানে সেই ধারণা বদলে গেছে। নিয়োগদাতারা শুধু ডিগ্রির খাতা দেখতে চান না, তাঁরা জানতে চান প্রার্থী প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিভিতে শুধু দায়িত্বের তালিকা না লিখে সুনির্দিষ্ট অর্জন ফুটিয়ে তোলা জরুরি। যেমন ‘বিক্রয় বিভাগে কাজ করেছি’ লেখার চেয়ে ‘গ্রাহক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানির বিক্রি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছি’—এমন তথ্য সক্ষমতা স্পষ্ট করে। ভালো সিভির মূল শক্তি হলো কম কথায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের উপস্থাপন। বড় বড় গালভরা শব্দ বাদ দিয়ে নিজের কাজের ফলাফল, সংখ্যা, শতকরা হিসাব ও শেখার বিষয়গুলো হাইলাইট করলে সহজেই নজর কাড়ে। ‘আমি কী কী করেছি’–এর পাশাপাশি ‘আমাকে কেন বেছে নেওয়া উচিত’—এই প্রশ্নের উত্তর সিভিতে স্পষ্ট থাকতে হবে।
ডিজিটাল যুগে চাকরি খোঁজার ধরনও দ্রুত বদলাচ্ছে। শুধু প্রতিষ্ঠানে মেইল পাঠিয়ে অপেক্ষা করার দিন শেষ। অনেক তরুণ এখন লিংকডইনকে ব্যবহার করছেন নিজের পেশাগত ব্র্যান্ড তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। সেখানে নিয়মিত দক্ষতা, নতুন শেখা বিষয়, প্রকল্পের নমুনা ও পেশাগত আগ্রহ তুলে ধরা হচ্ছে। একটি গোছানো ও সক্রিয় লিংকডইন প্রোফাইল কোনো আবেদন ছাড়াই নিয়োগদাতার নজর কাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা প্রোফাইল আকর্ষণীয় করতে কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন—পেশাদার ছবি ব্যবহার: একটি হাসিমুখের একক ও স্পষ্ট ছবি প্রথম ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট হেডলাইন: আপনি কোন ক্ষেত্রে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী, তা ছোট ও স্মরণীয় বাক্যে লিখুন। দক্ষতার নিয়মিত আপডেট: নতুন দক্ষতা অর্জনের পর দ্রুত প্রোফাইলে যোগ করুন। পেশাগত অভিজ্ঞতার বর্ণনায় শুধু দায়িত্ব নয়, সাফল্য ও প্রভাব উল্লেখ করুন। নিয়মিত কন্টেন্ট শেয়ার: নিজের ক্ষেত্র সম্পর্কিত পোস্ট, আর্টিকেল বা মন্তব্য শেয়ার করলে প্রোফাইল সক্রিয় থাকে এবং নেটওয়ার্ক বাড়ে।
চাকরির বাজারে টিকে থাকতে শুধু যোগ্যতা অর্জনই যথেষ্ট নয়, সেই যোগ্যতা সঠিকভাবে উপস্থাপনের কৌশলও আয়ত্ত করতে হবে। সিভি ও লিংকডইন প্রোফাইল আপডেট করে নিজের পেশাগত ব্র্যান্ড তৈরি করলে নিয়োগদাতার কাছে আকর্ষণীয় হওয়া সম্ভব।


