গ্রামাঞ্চলে সহজলভ্য হলেও শহুরে ক্রেতাদের কাছে অনেকটাই অচেনা ছিল কাউফল। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপে এই ফলের দেখা মিলছে, যেখানে এটি পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। শহুরে জীবনে ভিন্নতার সন্ধান আর গ্রামীণ স্মৃতির টানেই কি কাউফলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে? পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খানের মতে, স্বাদ ও পুষ্টিগুণ উভয় দিক থেকেই এই ফল গুরুত্বপূর্ণ।

টক-মিষ্টি স্বাদের কাউফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায় মিষ্টতা কম থাকে, তখন মসলা দিয়ে ভর্তা, চাটনি বা আচার বানিয়ে খাওয়া যায়। পাকা ফল তেমন কোনো মসলা ছাড়াই উপভোগ্য। ডিজিটাল মাধ্যমে ভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্রবণতাও এই ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কাউফলে বিদ্যমান ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য অপরিহার্য। বর্ষা মৌসুমের ফল হওয়ায় এই সময়ের নানা রোগবালাই প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিটা-ক্যারোটিন দেহে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা বিশেষত শিশুদের চোখের জন্য উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে এবং শরীরের তারুণ্য ধরে রাখে।

হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কাউফল কাজে আসে। ক্ষুধামান্দ্য বা অরুচির সময় এই ফল খেলে রুচি বাড়ে। তবে পুষ্টিবিদ শম্পা শারমিন খান সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত কাউফল গ্রহণ হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। মিষ্টি কাউফলে ক্যালরির মাত্রা কিছুটা বেশি, তাই স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া উচিত।

লবণ, বিট লবণ বা কাসুন্দির মতো সোডিয়ামসমৃদ্ধ উপাদান যোগ করে কাউফল খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে কখনো স্ট্রোক হয়েছে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় কাউফল অন্তর্ভুক্ত করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, কাউফল একটি পুষ্টিকর ফল যা সঠিক মাত্রায় ও সতর্কতার সাথে খেলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। শহুরে বাজারেও এখন এই ফলের সহজলভ্যতা গ্রামীণ ও দেশজ পণ্যের প্রতি আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করছে।