বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে আজ মুখোমুখি হচ্ছেন দুই প্রজন্মের দুই ফুটবল জাদুকর—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। নিউইয়র্কের ‘ফ্যানাটিকস ফেস্টে’ ফাইনালের দুদিন আগে উপস্থিত ছিলেন মেসি, রদ্রি ও দুই দলের কোচসহ আরও অনেক তারকা। তবে ইয়ামাল সেখানে ছিলেন না; তিনি ভাই ও বান্ধবীর সঙ্গে নির্ভার সময় কাটিয়েছেন। মেসি সেখানে ২০০৭ সালের একটি ছবি স্মরণ করে হেসে বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমরা দুজনই বিশ্বকাপে খেলছি, এটাই তো পাগলামি!’ তিনি ইয়ামালের প্রশংসা করে মজা করে যোগ করেন, ‘সে অসাধারণ ফুটবলার। কিন্তু এবার যাতে সে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে, সেজন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব!’

ইয়ামালের জীবনটা রূপকথার মতোই। বার্সেলোনা থেকে ঘণ্টাখানেক দূরত্বের মাতারোর রোকাফোন্দোয় বড় হওয়া এই তরুণের পরিবার আর্থিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি নিজেই বলেছেন, সেই কষ্ট তাকে অল্প বয়সেই পরিণত করেছে। মেসির সঙ্গে ওই বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়—বার্সেলোনার হাজারো শিশুর ভিড় থেকে মেসি কেন ইয়ামালের সঙ্গেই ছবি তুললেন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা। ইয়ামাল কিন্তু ‘খাঁটি’ স্প্যানিশ নন; তার বাবা মরোক্কান ও মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নাগরিক।

এই বিশ্বকাপে ইয়ামালের একমাত্র গোলটি গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে। তবে তার অবদান শুধু গোল করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি আদায় করেছেন, সেইসঙ্গে এমবাপ্পেকে ঠেকাতে রক্ষণেও নেমে গেছেন। তবে চোট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে—পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেই বিশ্বকাপে প্রথম পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছেন তিনি। সেমিফাইনালের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, চোট গুরুতর কিছু নয়।

ইয়ামালের সঙ্গে মেসির তুলনা বহুদিন ধরেই চলছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি দেশ ও ক্লাবের হয়ে ১৩৩টি ম্যাচ খেলে ৩৭টি গোল করেছেন। অথচ এই বয়সে মেসি খেলেছিলেন মাত্র ৩৫ ম্যাচ, গোল করেছিলেন ৯টি। এমনকি ১৯ বছর বয়সী পেলে ও ম্যারাডোনাও এত গোল করতে পারেননি। পেশাদার ক্যারিয়ারে ইয়ামালের তিন বছরের বেশি হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হয় তার, বয়স ১৬ হওয়ার আগেই। এরপর রেকর্ডবুক তোলপাড় করে তিনি বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে একাদশে অভিষেক, লিগে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা ও এল ক্লাসিকোয় সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে বাঁ পায়ের সেই জাদুকরি গোল তাকে বিশ্ব ফুটবলের নজরে আনে।

এত অল্প বয়সে তারকাখ্যাতি পেলেও ইয়ামালের পা মাটিতেই আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার ভাষায়, ‘ইয়ামালকে গণমাধ্যমের অনেক চাপ নিতে হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও সে খুব কম ভুল করে।’ অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি হাসতে হাসতে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি ইয়ামালকে ফাইনালের আগে ঘরবন্দী করে তালা মেরে রাখতেন। তবে তিনি জানেন, এই বয়সেই ইয়ামাল যেকোনো রক্ষণের তালা খুলে ফেলতে পারেন। আজকের ফাইনালে তাই সবার নজর থাকবে এই তরুণ তারকার ওপর—তিনি কি মেসির ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’কে ব্যর্থ করে দিতে পারবেন?