বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গত ২৩ ও ২৪ জুলাইয়ের ঘটনার জের ধরে শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। পূর্বের দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই রোববার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ উত্তেজনা ছড়ায়। উভয় পক্ষই পরস্পরকে হামলার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা কয়েকজন ক্যাম্পাসের কাছাকাছি ফসিলের মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে শহীদ শামসুল হক হলের ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাঁদের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায়। তাদের অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই হামলার সময় দোকানের বেঞ্চ-কাপ ছোঁড়া হয় এবং চায়ের দোকানটিতে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার শিকার এক শিক্ষার্থী নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ছয়জন মিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চা খেতে এলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়।
তবে শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের বয়ান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, ফসিলের মোড়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফিরে আসার পরে, আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের হলের ফটকে হামলা চালায়।
ঘটনার কয়েকটি ভিডিওচিত্র থেকে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি শহীদ শামসুল হলের প্রধান ফটকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে, বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করছে ও গেটে সাঁটানো লোগো খুলে নিচ্ছে। ভিডিওতে কয়েকটি বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখা গেলেও, এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাঙচুরের সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দশ মিনিট পরই তারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ শামসুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল আওয়াল জানিয়েছেন, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশরাফুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল আলীমের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।




