অনলাইনে তথ্য খোঁজার পাশাপাশি এখন গুগল সার্চের মাধ্যমেই মিলতে পারে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং জ্যামিতির কঠিন অঙ্কেরও সমাধান, যে বিষয়টি অনেক ব্যবহারকারীরই অজ্ঞাত রয়ে গেছে। ২০২৩ সাল থেকে এই কার্যকরী সুবিধা চালু আছে। প্রতিষ্ঠানটির বরাতে জানা যায়, অধ্যয়নকালে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় একটি সমস্যা সমাধানের কোনো ধাপে এসে বিভ্রান্তিতে পড়ে। ক্যালকুলাস বা ত্রিকোণমিতির মতো জটিল বিষয়গুলোয় সাহায্য পেতে তারা গুগল সার্চ অপশনের ওপর ভরসা করতে পারেন। সরাসরি সার্চ বারে কোনো সমীকরণ লিখে অথবা লেন্সের সাহায্যে ছবি তুলে ধাপে ধাপে সমাধানের প্রক্রিয়াটি দেখে নেওয়া যায়। ডেস্কটপ কিংবা মোবাইলে ‘ম্যাথ সলভার’ লিখলেই এই ফিচারটি হাতের নাগালে চলে আসে।
লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ক্রমবর্ধমান দক্ষতার সুবাদে উচ্চবিদ্যালয় স্তরের পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন লিখিত সমস্যারও সমাধান এখন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি জানা ও অজানা মানগুলোকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রয়োজনীয় সূত্র প্রয়োগের নির্দেশনাও জানিয়ে দিচ্ছে গুগল সার্চ। অন্যদিকে, জ্যামিতির চিত্রভিত্তিক প্রশ্নগুলো কেবল শব্দ দিয়ে লেখা অনেক সময় কঠিন হয়। যেমন ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল বের করার জন্য যদি কেবল ছবি ও পরিমাপের তথ্য দেওয়া থাকে, তাহলে তা টাইপ করে সার্চ করা অসম্ভব। গুগল লেন্সের মাধ্যমে ত্রিভুজের ছবি এবং প্রদত্ত তথ্যের সমাধান একসঙ্গেই জানা যায়। ফিচারটি পর্যায়ক্রমিকভাবে সম্পূর্ণ সমাধানের একটি কাঠামো নির্মাণ করে দেয়।
তাছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল বিষয়ে স্পষ্ট বোঝাপড়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুগল সার্চে ইন্টারঅ্যাকটিভ থ্রিডি মডেল সহায়তার ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ব্যবহারকারী খুব সহজেই কোষের ভেতরে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়ার ভাঁজ বা ক্রিস্টির রূপ সরাসরি অবলোকন করতে পারেন।
গুগলের প্রোডাক্ট লিড রব ওংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গণিতের বই সামনে নিয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় বা কোনো দুরূহ পদার্থবিজ্ঞানের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলে, অনেক সময় আপনি যা খুঁজছেন তা সঠিকভাবে ব্যক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। সার্চ ও লেন্সের নতুন এই ফিচারগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) সংশ্লিষ্ট ধারণাগুলো ভিজ্যুয়ালাইজ করতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি কোন সমীকরণটি প্রযোজ্য, সেটিও আরও স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করে নিতে পারবেন।




