জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম হবিগঞ্জে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার হয়ে ঢাকায় ফিরেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের বহরে হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর তারা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করে এনসিপি কর্মীরা। এনসিপি এই হামলার জন্য ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও ছাত্রদল পাল্টা দাবি করে, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন ও সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাসীরুদ্দীনের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে সার্কিট হাউসে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তিনি সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা তিনি সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিসকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টায় পুলিশ প্রটোকলে তিনি হবিগঞ্জ ছেড়ে ঢাকার পথে রওনা হন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীনও হামলার মুখে দ্রুত সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়ে পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এনসিপির অভিযোগ, পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। একপর্যায়ে দলের মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। হামলায় মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও জানানো হয়। ফেসবুকে এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পৃথক পোস্টে বলেন, সার্কিট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে মাইক্রোবাস ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক নজির।

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সে বক্তব্যের কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এর প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিবাদে রাতে সিলেট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ চলছিল।