ফ্রান্সের উপকূলীয় এলাকায় অস্বাভাবিক রকমের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে জেলিফিশের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রাভলিনসে উৎপাদন সংকট দেখা দিয়েছে। এডিএফ (ইলেকট্রিসিতে দ্য ফ্রান্স) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে জেলিফিশ ঢুকে পড়ায় কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে এবং চতুর্থ একটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনও হ্রাস করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ৩.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অফলাইনে চলে গেছে, যা ফ্রান্সের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। দেশটির কিছু অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
ইউরোপ জুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের উপকূলবর্তী সমুদ্রের পানিতে জেলিফিশের 'ব্লুম' বা দ্রুত বংশবিস্তার ঘটছে। সাধারণত উপকূলীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কুলিং সিস্টেমে সমুদ্রের পানি টানা হয়, আর সেই পানির সাথে জেলিফিশও ঢুকে পড়ায় ফিল্টার ও পাম্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা প্রথম সোমবার থেকে শুরু হয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দাখিল করা তথ্য অনুযায়ী, আপাতত দুটি ইউনিট বুধবার রাতের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও বাকি দুটি ইউনিট — যাদের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১.৮ গিগাওয়াট — সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।
গ্রাভলিনস বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে অবস্থিত এবং গত বছরও একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তখন জেলিফিশের দল ফিল্টার ড্রামগুলো আটকে দিয়েছিল, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। এবারের পরিস্থিতিতে এডিএফ নদীর তীরবর্তী অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন হ্রাস করতে বাধ্য হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নদীর পানি দিয়ে চুল্লিগুলোকে ঠান্ডা করা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এর ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে তীব্র গরমে শীতলীকরণের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।




