সম্প্রতি প্রকাশিত এক ধর্মীয় আলোচনায় ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ীর মুহাদ্দিস ফয়জুল্লাহ রিয়াদ বিপদকালীন সময়ে মুসলমানদের জন্য সাতটি করণীয় নির্ধারণ করেছেন। তাঁর ভাষ্যে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সকল বিপদ-আপদই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, ধনসম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করা হবে এবং ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ।

লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম ও প্রধান করণীয় হলো ধৈর্য। কোরআনে ধৈর্যশীলদের অপরিমিত প্রতিদানের কথা উল্লেখ আছে। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন ধৈর্যশীলরা যখন বিপুল প্রতিদান পাবে, তখন দুনিয়ায় বিপদমুক্তরা আফসোস করবে। তাই বিপদে বিচলিত না হওয়া এবং আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই ইমানের পরিচয়।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা বা তাওয়াক্কুলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংকটের সময় মানুষের শক্তি সীমিত হয়ে যায়। কোরআনে বলা হয়েছে, যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট। নবী মুসা (আ.)-এর ঘটনা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—তিনি ফেরাউনের বাহিনী ও সমুদ্রের মাঝখানে আটকা পড়েও আশ্বস্ত ছিলেন যে আল্লাহ তার সঙ্গেই আছেন।

তৃতীয় করণীয় হলো নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা। কোরআনে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) কঠিন পরিস্থিতিতে নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতেন। সেজদায় বান্দা তার অসহায়ত্ব ও দুঃখ-কষ্ট মহান রবের কাছে নিবেদন করে।

চতুর্থ নির্দেশনা হিসেবে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, বিপদকালে এই দোয়া পাঠকারীর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত নাজিল হয়।

পঞ্চমত, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানুষের ওপর আগত বিপদ তাদের কৃতকর্মের ফল। অনেক সময় বিপদ গুনাহ মোচনের জন্যও আসে। হাদিসে এসেছে, বান্দার গুনাহ যখন বেড়ে যায় এবং নেক আমল কম থাকে, তখন আল্লাহ তাকে কষ্টে ফেলে দিয়ে পাপ ক্ষমা করেন।

ষষ্ঠ করণীয় হলো সদকা। হাদিসে সদকাকে আল্লাহর রাগ প্রশমিত করার এবং অপমৃত্যু রোধ করার মাধ্যম বলা হয়েছে। আরেক বর্ণনায় সদকা গুনাহকে মোচন করে যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়—এমন কথা বলা হয়েছে।

সপ্তম ও শেষ করণীয় হলো বাস্তবিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে বসে না থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো ইসলামের শিক্ষা। অসুস্থ হলে চিকিৎসা, আর্থিক সংকটে উপার্জন ও সামাজিক সমস্যায় সমাধান খোঁজা কর্তব্য। রাসুল (সা.) বলেছেন, যা উপকারে আসে তা গ্রহণ করতে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য চাও, কখনো অক্ষম হয়ো না।

লেখকের মতে, মুমিন ব্যক্তি বিপদে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য, তাওয়াক্কুল, দোয়া, তওবা, সদকা ও সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করলে বিপদ তার জন্য গুনাহ মোচন ও নেকি লাভের সোপান হয়ে ওঠে।