দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকেও একই রকম সাজা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে তৎকালীন সরকার বাহিনীর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এই ঘটনায় বাশার আল-আসাদকে 'পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের' দায়ে এবং আতেফ নাজিবকে 'হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের' দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে উভয়ের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছর সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, তারা বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়। ক্ষমতার পতনের পর আসাদ দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং সেখানেই তিনি বর্তমানে অবস্থান করছেন। দেশটির নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সাবেক শাসনামলের নৃশংসতার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে। এই রায়ের মাধ্যমে সিরিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, এই রায়ের পর সিরিয়ার জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিজয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আসাদপন্থী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলও এই রায়কে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িত অন্যান্য পক্ষের বিরুদ্ধেও একই ধরনের বিচার প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।