লিবিয়ার জরুরি বিভাগ রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত প্রধান তেল শোধনাগার জাওইয়াতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই শোধনাগারটি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যা গত দুই দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ঘটনা।

ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি সংরক্ষিত একটি ট্যাংক সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই আঘাতের ফলেই বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে এবং ট্যাংকটি ধসে পড়ে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, যদি এই হামলার ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে।

লিবিয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে কারও গুরুতর আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। বেশিরভাগ রোগী ধোঁয়া নিঃশ্বাসে নেওয়ার কারণে চিকিৎসা নিয়েছেন। উল্লেখ্য, জাওইয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার বৃহত্তম কার্যকরী স্থাপনা, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

এর আগে গত কয়েক দিনে জাওইয়াতে সংঘটিত একই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এনওসি। এর মধ্যে ন্যাপথা জলাধার এবং একটি জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে ড্রোন হামলার ঘটনাও রয়েছে। সহিংসতার পেছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

এই হামলাগুলো লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৬৯ সালে ক্ষমতা দখলকারী কর্নেল গাদ্দাফি চার দশক ধরে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালিয়েছিলেন। ২০১১ সালে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপে সহায়তা পাওয়া বিদ্রোহের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন।

তার পতনের পর থেকে দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। একটি পূর্বাঞ্চলে, যার পেছনে রয়েছে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের সমর্থন; অন্যটি পশ্চিমের ত্রিপোলিতে, যার নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা। রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে।

ইতিমধ্যে লিবিয়ার উপকূল থেকে এ বছর প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের খুঁজে বের করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।