২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর উচ্চমাধ্যমিক স্তরে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা দিল নটর ডেম কলেজ। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের প্রেক্ষাপটে কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা হাতে পেলেই ভর্তি-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, প্রচলিত নিয়মেই ভর্তি হবে — কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা নয়। শিক্ষার্থীদের ফলাফল, কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় আসন বরাদ্দ করা হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ থাকে। এরপর মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হলেও কারিগরি বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় হয়।
ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতে ভর্তি পরিচালিত হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
এবারের ফলাফলে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যার প্রভাব পড়বে ভর্তি কার্যক্রমে। চলতি বছরে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন — অর্থাৎ প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) মোট প্রায় ২৫ লাখ আসনের মধ্যে ১৩ লাখ ৬১ হাজারের মতো আসন খালি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশে ভর্তি হয়েছিল, অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এবার পাসের হার আরও কমায় খালি আসনের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে শুধু পাসের হার নয়, বিভিন্ন বছরেই আসন খালি থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।




