ভূমিধসের কারণে পাহাড়ের কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন মঠ ধ্বংস হয়ে গেলে গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মঠটি পুনর্নির্মাণের কথা ভাবছিলেন তাঁরা, এমন সময় গ্রামের কাছেই মাটিতে প্রায় এক মিটার ব্যাসের একটি গর্ত আবিষ্কৃত হয়। গর্তটি এত গভীর যে তলদেশ দেখা যায় না, মনে হচ্ছিল তা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত চলে গেছে।

কৌতূহলী এক যুবক গর্তে পাথর নিক্ষেপ করলে কোনো শব্দ শোনা যায়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে একজন বিজ্ঞানী পরীক্ষা করতে আসেন। শক্তিশালী বুল হর্ন দিয়ে শব্দ পাঠিয়ে তিনি গর্তের গভীরতা মাপার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো প্রতিধ্বনি পাননি। ব্যর্থ হয়ে বিজ্ঞানী গর্তটি বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

সবাই হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে গর্তটি ভরাটের প্রস্তাব দেন। গ্রামের মেয়র শর্ত দেন যে, গর্তের জায়গায় একটি নতুন মঠ নির্মাণ করতে হবে। লোকটি প্রতিশ্রুতি দেন এবং গ্রামের কাছেই একটি মিটিং হলসহ নতুন মঠ নির্মাণ করেন। পরে তিনি গর্তটির প্রচার শুরু করেন এবং দাবি করেন এটি পাঁচ হাজার মিটার গভীর।

সরকারি অনুমতি নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্জ্য ফেলার জন্য গর্তটি ব্যবহারের চুক্তি করা হয়। বিনিময়ে গ্রামবাসীকে লাভের অংশীদার করা হয় এবং শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে গর্তে সিসার বাক্সে করে পারমাণবিক বর্জ্য, সরকারি নথিপত্র, পরীক্ষাগারের মৃত প্রাণী ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হতে থাকে।

গর্তটি শহরের বর্জ্য সমস্যার সমাধান হয়ে ওঠে। অপরাধীরা প্রমাণ, বিবাহিত নারীরা পুরোনো ডায়েরি ও ছবি, পুলিশ জাল নোট — সবাই নিজেদের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গর্তে ফেলতে শুরু করে। শহরের পরিবেশ পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে একদিন নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিক শুনতে পান, ‘কেউ থাকলে বেরিয়ে এসো!’ — আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু না দেখে তিনি তা উপেক্ষা করেন।