চীনা রন্ধনশৈলী যে শুধু চাউমিন, ফ্রায়েড রাইস বা ডাম্পলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বিশাল এই দেশের প্রতিটি অঞ্চলের রান্নায় রয়েছে স্বতন্ত্র স্বাদ, উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালি। সেই আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, খাবার ও সংস্কৃতিকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরতে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হয়েছে বিশেষ আয়োজন ‘ইম্পেরিয়াল ফ্লেভার্স অব চায়না’। হোটেলের মোজাইক রেস্তোরাঁয় ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই চীনা রসনা উৎসব চলবে ১৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।
আয়োজনে শুধু চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবারই নয়, সাথে থাকছে এশিয়ার অন্যান্য দেশের নানা পদ, বিশেষ ডেজার্ট এবং চীনা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ফলে এটি খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি চীনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি নান্দনিক প্রয়াস। হোটেলে প্রবেশের পর থেকেই চীনা আবহে সাজানো পরিবেশ অতিথিদের স্বাগত জানায়। ঐতিহ্যবাহী প্রাণবন্ত ড্রাগন নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজনের সূচনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ইম্পেরিয়াল ফ্লেভার্স অব চায়না’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এয়ার চায়নার স্টেশন ম্যানেজার সান শিন। উপস্থিত ছিলেন আইএইচজির সাউথ ওয়েস্ট এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বিনী নায়ারসহ সংশ্লিষ্ট অতিথি ও আয়োজকরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে অশ্বিনী নায়ার বলেন, ‘ইম্পেরিয়াল ফ্লেভার্স অব চায়না কেবল ডিনার বুফে নয়; এটি চীনের খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি উদযাপন। অথেনটিক ফ্লেভার, ঐতিহ্যবাহী ডেলিকেসি এবং সপ্তাহজুড়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে আমরা অতিথিদের জন্য একটি ইমার্সিভ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছি।’
অন্দরসজ্জাতেও ফুটে উঠেছে চীনের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, গাছপালা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতীক। খাবারের পাশাপাশি পুরো আয়োজন জুড়ে তৈরি হয়েছে চীনা সংস্কৃতির আলাদা আবহ। মোজাইকে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় জনপ্রিয় চরিত্র ‘কুংফু পান্ডা’, যা শিশু থেকে বড় সবার জন্য ছিল আনন্দের সংযোজন।
বুফেতে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার ধরন ও স্বাদ আলাদা আলাদা কর্নারে সাজানো হয়েছে। শুরুতে ছিল সতেজ ফুলকপির স্যুপ উইথ আমন্ড, যা ছিল হালকা ও আরামদায়ক। কাস্টমাইজড টম ইয়াম স্যুপে মাশরুম, টফু, কোয়েলের ডিম, চিকেন ও প্রন—নিজের পছন্দমতো উপকরণ বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। পুরো আয়োজনের ‘শোস্টপার’ বলা যায় পেকিং ডাককে। ১৪ ধরনের হার্ব ও সস দিয়ে তিন দিন ম্যারিনেট করা এই পদে ছিল মিষ্টি, ঝাল ও টক স্বাদের চমৎকার সমন্বয়। প্রন, চিকেন ও সবজির বিভিন্ন পদেও ছিল সস ও মসলার বৈচিত্র্য। চিলি অয়েল, সুইট চিলি সস, সেসিমি অয়েল ও সয়া সসের ব্যবহার খাবারগুলোতে এনেছে আলাদা মাত্রা। ডাম্পলিং ছিল নরম ও স্বাদে পরিপূর্ণ। সাংহাই ফ্রায়েড নুডলস ছিল পরিচিত চায়নিজ স্বাদের মধ্যে উপভোগ্য, আর সিচুয়ান স্টাইল বিফের স্বাদ ছিল গভীর ও সমৃদ্ধ। রসুনের সঙ্গে বকচয় ছিল একেবারেই চায়নিজ কমফোর্ট ফুডের মতো। স্লো-কুকড বিফ অক্সটেইলও ছিল উপভোগ্য, বিশেষ করে চায়নিজ ফ্রায়েড রাইসের সাথে এর জুটি ছিল জমজমাট।
চীনা খাবারের পাশাপাশি বুফেতে রয়েছে সুশি কর্নার, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সুশির প্রতিটিতেই ছিল আলাদা স্বাদ ও উপস্থাপনার বৈচিত্র্য। ডেজার্ট কর্নারে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুনকেক, চায়নিজ চিজকেক, ম্যান্ডারিন চমচম, জিয়ান দোয়াই বা সিসেমি বল, ক্লাসিক চায়নিজ এগ টার্ট এবং রাইস পুডিং। এছাড়া বুফেতে থাকছে মা লাই গো, ট্র্যাডিশনাল মুনকেক, এইট ট্রেজার রাইস পুডিং বা বা বাও ফান, আলমন্ড জেলি উইথ লিচি এবং চায়নিজ বানানা ফ্রিটার্স। এশিয়ান ফ্লেভারের মধ্যে রয়েছে খাও নিও মামুয়াং, কোকোনাট ট্যাপিওকা পুডিং উইথ ম্যাঙ্গো অ্যান্ড পোমেলো এবং ফাইভ স্পাইস চকলেট শিফন কেক। পাশাপাশি সাত ধরনের দেশীয় মিষ্টির বিশেষ আয়োজনও রয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে অতিথিরা উপভোগ করতে পারবেন বিভিন্ন চীনা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিশেষ করে ড্রাগন ড্যান্সসহ ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা। আয়োজনের এয়ারলাইন পার্টনার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা রুটে একটি রাউন্ড ট্রিপ এয়ার টিকিট প্রদান করবে। ব্যাংকিং পার্টনার এনসিসি ব্যাংক। এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের নির্বাচিত কার্ড ব্যবহার করে বিশেষ ‘ডাইন ৪ পে ১’ অফার উপভোগ করা যাবে, যা প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষ।
সব মিলিয়ে ‘ইম্পেরিয়াল ফ্লেভার্স অব চায়না’কে শুধু একটি ডিনার বুফে হিসেবে দেখলে আয়োজনের বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। খাবারের সাথে এখানে রয়েছে গল্প, সংস্কৃতি, সাজসজ্জা ও বিনোদনের সমন্বয়। একেক অঞ্চলের একেক স্বাদের চীনা খাবার চেখে দেখা, ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন নৃত্য উপভোগ করা কিংবা চীনের সাংস্কৃতিক প্রতীকে সাজানো পরিবেশে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে এটি যেন খাবারের টেবিলে বসে চীনকে কাছ থেকে অনুভব করার অভিজ্ঞতা। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের মোজাইকে চলবে এই বিশেষ আয়োজন।




