রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চার দিন ধরে চলা এই তল্লাশির পর গত বুধবার একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে প্রিমিয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পুরো ইকবাল সেন্টারটি সিলগালা না করে শুধুমাত্র ইকবালের ব্যক্তিগত চেম্বার এবং একজন পরিচালকের কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে।

তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং সম্পদ জব্দ করেছে দুদক। জব্দ করা জিনিসের মোট পাঁচটি পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র সম্পদের দলিলের তালিকাই প্রায় ৩৭ পৃষ্ঠার। এছাড়া সেখান থেকে তিন শতাধিক দলিলের পাশাপাশি ৫০০ থেকে ৬০০টির বেশি চেক বই এবং স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ম্যাকবুক, একটি আইপ্যাড, একটি নেক্সাস ট্যাব এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন। দুদকের কর্মকর্তাদের মতে, এই যন্ত্রগুলোর কিছু অংশ ইকবালের ছেলেরা ব্যবহার করতেন।

এই অভিযানের পাশাপাশি প্রিমিয়ার গ্রুপের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কারসাজি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুদক। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং মহাব্যবস্থাপক এ ডি এম নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উল্লেখ্য যে, অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ আগস্ট তাঁদের তলব করা হয়েছিল। দুদকের অনুসন্ধান দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার গ্রুপের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আরও পাঁচটি মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।