রোম থেকে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে নিখোঁজ হওয়া লাগেজটি ফেরত নিতে এসে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন আবুল বাশার নামের এক যাত্রী। সোমবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে ওই লাগেজটি স্ক্যানিংয়ের সময় তার ভেতরে থাকা একটি খেলনা পিস্তল, গানপাউডারসহ ৫০টি বুলেট এবং একটি চাকুর সন্ধান মেলে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তায় এসব আপত্তিকর সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত থেকে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটে রোম থেকে ঢাকায় নামেন আবুল বাশার। সেদিনই বিমানবন্দরে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ১৫ আগস্ট বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে করে সেই নিখোঁজ লাগেজটি ঢাকায় পৌঁছায়। সোমবার সেই লাগেজটি সংগ্রহ করে কাস্টমসের গ্রিন চ্যানেল-২ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন আবুল বাশার। কিন্তু এনএসআই ও কাস্টমস প্রিভেনটিভ টিমের সদস্যরা সন্দেহ হলে প্রথমে লাগেজটি স্ক্যানিং মেশিনে দেওয়া হয়। স্ক্যানে ভেতরে পিস্তলের মতো একটি বস্তু ধরা পড়ার পর কাস্টমসের ইনভেন্টরি টেবিলে নিয়ে গিয়ে লাগেজটি খোলা হয়।

খোলার পর লাগেজটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় খেলনাসদৃশ একটি পিস্তল, গানপাউডারযুক্ত ৫০টি বুলেট এবং একটি চাকু। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন, তবে থানায় এখনও কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে আরও তদন্ত চলছে। আপাতত আবুল বাশারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের যৌথ উদ্যোগে এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কীভাবে এতগুলো গুলি ও চাকুসহ একটি পিস্তল বিমানে করে বহন করা সম্ভব হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে লাগেজটি জব্দ করা হলেও কাস্টমসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে আবুল বাশারের অবস্থান সম্পর্কে বিমানবন্দর থানায় জানানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।