রাজধানীর ফার্মগেট–মোহাম্মদপুর পথে লেগুনা চালান মো. হাদিস মিয়া (৩২)। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় একটি টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকেন তাঁর। মাসিক ভাড়া সাত হাজার টাকা। মেয়েরা স্কুলে পড়ে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লেগুনা চালিয়ে দিন শেষে তাঁর যে আয় হয়, তার বড় অংশ বাসাভাড়ায় চলে যায়। বাকি টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। তিনি বলেন, ঘরভাড়া এখনো না বাড়লেও বাজারের সবকিছুর দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল কিনতে গিয়েই পকেট খালি হয়ে যায়। মেয়েদের পড়ালেখার খরচ তো আছেই। সংসার চালাতে কখনো কখনো ধারকর্জও করতে হয়। হাদিস মিয়া আরও জানান, এখন প্রতি মাসেই খরচ কমানোর জায়গা খুঁজে বেড়ান। দৈনিক গাড়ি জমা, গ্যাসসহ খরচ বাদে তাঁর হাতে থাকে ৭০০-৮০০ টাকা। লেগুনার ট্রিপ কমে যাওয়ায় আয় কমছে, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, মেয়েদের মুখের দিকে তাকালে মনে হয় যেভাবেই হোক টিকে থাকতে হবে, কিন্তু বাজারের অবস্থা খুব কঠিন।
কুড়িলের যমুনা ফিউচার পার্ক–সংলগ্ন জগন্নাথপুর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন আবদুর রহমান (৪৫)। বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি ঢাকাতেই কাটান। ভবনের প্রধান ফটক পাহারা দেওয়া ও বাসিন্দাদের যাতায়াত তদারকি তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ভবনের একটি কক্ষে থাকেন আবদুর রহমান। তাঁর বর্তমান মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা। এই বেতন দিয়ে ঢাকায় নিজের খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ মিটিয়ে খুব বেশি টাকা গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে পারেন না। স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে তাঁর। তিনি জানান, নিজের খরচ আছে, আবার পরিবারের জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতে হয়। বেতন সেভাবে না বাড়ায় দুই দিকের চাপ সামলাতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন। আগে মাস শেষে সামান্য হলেও কিছু টাকা বাঁচত, কিন্তু এখন দেখা যায় মাস শেষে হাত ফাঁকা। বাজারের অবস্থা ও খরচের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
আবদুল আজিজের (৬৪) বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। এখন থাকেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে আড়তে। প্রতিদিন সকালে কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে পটোল, শসা বা গাজর কিনে কিছুটা দূরে ইন্দিরা রোডের ফুটপাতে বসে বিক্রি করেন। দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মতো লাভ হয় তাঁর। ৮-১০ হাজার টাকা জমলে তা নিয়ে বাড়ি যান তিনি। বাড়িতে স্ত্রী থাকেন। দুই ছেলে, দুই মেয়ের সবাই বিবাহিত। বড় ছেলে এলাকায় সবজি বিক্রি করেন, ছোট ছেলে একটি দোকানের কর্মী। কয়েক মাস ধরে তাঁর হিসাব আর মিলছে না। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েই চলছে, অথচ ফুটপাতের ক্রেতা ধরে রাখতে গেলে দাম বেশি বাড়ানো যায় না। আগে যে টাকায় এক বস্তা পটোল কিনতেন, এখন তার প্রায় দ্বিগুণ লাগে। ফলে লাভের অঙ্ক অনেক কমে গেছে। বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো টানে না, কিন্তু বসে থাকার উপায় নেই।




