দেশের বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো বিদ্যমান। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বয়ে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার যেখানে ছয় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল, সেখানে শুক্রবার সকালে তা পাঁচটিতে নেমে এসেছে।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগের দিনের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত। তবে তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মূলত বৃষ্টিপাতের ধরনের ওপর নির্ভর করবে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে কতটুকু বৃষ্টি হচ্ছে, সেটিও নদীর পানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একইসঙ্গে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুলেটিন অনুসারে, মোট ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে পানি কমছে, আর বাকি ৫টিতে পানির উচ্চতা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিপদসীমার ওপর থাকা নদীগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার উপরে অবস্থান করছে। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। মনু নদের পানি মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশন, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বৃষ্টিপাতের তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনে দেশের ভেতরে ও উজানের বৃষ্টির ধারা নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।