চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রায়হান গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই অভিযোগে তিনি শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে প্রথমে স্লুইসগেট এবং পরে পার্শ্ববর্তী একটি ইটভাটা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পূর্বঘটিত একটি মারামারির ঘটনায় নিজেকে জড়িত বলে স্বীকার করতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পাশাপাশি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৯ জুন রাতে ফুটবল খেলা দেখানোর সময় ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসা ও ধূমপান নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশানের সঙ্গে আল-মামুনের সংঘর্ষ হয়। এর জেরে পরদিন ৩০ জুন রাতে শাহজালাল হলের সামনে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থী আল-মামুনের ওপর হামলা চালায়। পরে শাহজালাল হল অবরুদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে শাখা ছাত্রশক্তির নেতা উলফাতুর রহমানকেও ছাত্রদল কর্মীরা হামলার শিকার করেন। এমনকি প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করা হয়।
ভুক্তভোগী রায়হান জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আল-মামুনের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবুও তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও ভিডিও বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি প্রক্টরের কাছে বিচার চেয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আল-মামুন দাবি করেছেন, তিনি পূর্বের ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে শুধু রায়হানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সে সময় তিনি একাই ছিলেন। তাঁর মতে, কোনো মারধর, হুমকি বা ভিডিও বক্তব্য নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, কেউ অন্যায় করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন ব্যবস্থা নেয়। তা ছাড়া সংগঠনের কাছেও অভিযোগ এলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ গ্রহণ করে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




