মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে তেল কোম্পানিগুলো ‘অত্যধিক টাকা’ উপার্জন করছে। একই সময়ে, কংগ্রেসে তেলের অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর কর বসানোর জন্য তিনটি পৃথক বিল উত্থাপিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই শেভরন ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক লাভের ঘোষণা দেয়, যা বৃহত্তর চিত্রের একটি অংশ মাত্র। বিশ্লেষক সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস শিল্পে নগদ লাভের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে শিল্পের প্রত্যাশিত লাভের চেয়েও অনেক বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতির অধ্যাপক টিবর বেসেদেস, যিনি একজন প্রয়োগকৃত ক্ষুদ্র-অর্থনীতিবিদ, ব্যাখ্যা করেছেন যে অপ্রত্যাশিত লাভের কর নিয়ে অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি উভয় পক্ষের দাবির চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম। বিলের সমর্থকরা প্রায়শই রাজস্ব আয়ের অত্যধিক আশাবাদী অনুমান করেন, অন্যদিকে বিরোধীরা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাবের মাত্রাকে অতিরঞ্জিত করেন। ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের করের পরীক্ষা এ দুই দিক থেকেই শিক্ষামূলক।
১৯৮০ সালে কার্যকর হওয়া ‘ক্রুড অয়েল উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স’ দশ বছরে ৩৯৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ১৯৮৮ সালে বাতিল হওয়ার আগে এটি মাত্র প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ অনুমানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—আদায় করতে সক্ষম হয়। ১৯৮৬ সালের পর তেলের দাম ধসে পড়ে, দেশীয় উৎপাদন ক্রমশ করমুক্ত হয় এবং বাতিলের সময় নাগাদ করটি প্রায় কোনো রাজস্বই তৈরি করছিল না।
অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাজ্যে উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাসের ওপর বিদ্যমান করের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ৭৮ শতাংশ হারে একটি অপ্রত্যাশিত লাভের কর কার্যকর রয়েছে, যা ২০২৬ সালে আনুমানিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা ২০২৪-২৫ সালের রাজস্বের প্রায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে এককালীন একটি কর আরোপ করা হয়েছিল, যা ২৬.১৫ বিলিয়ন ইউরো (৩০ বিলিয়ন ডলার) সংগ্রহ করেছিল। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে পাঁচটি ইইউ দেশ দ্বিতীয়বার এমন কর আরোপের আহ্বান জানাচ্ছে।
অপ্রত্যাশিত লাভের করের মূল ধারণা হলো, এটি এমন অর্থের ওপর আরোপিত হয় যা কোম্পানি একই উৎপাদন সিদ্ধান্তের ফলেই পেত—যুদ্ধ কেবল প্রতিটি ব্যারেলের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি আদর্শ উইন্ডফল ট্যাক্স সব মুনাফার ওপর নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ভিত্তিমূল্যের (বেসলাইন) চেয়ে বেশি অংশের ওপর আরোপিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার ‘পেট্রোলিয়াম রিসোর্স রেন্ট ট্যাক্স’ এবং নরওয়ের বিশেষ পেট্রোলিয়াম কর এ ধরনের কার্যকর উদাহরণ। এগুলোর অধীনে কোম্পানিগুলো অনুসন্ধান ও বিনিয়োগসহ সব খরচ এবং স্বাভাবিক লাভের হার বাদ দেওয়ার পরই করযোগ্য হয়।
কংগ্রেসে বর্তমানে বিবেচনাধীন বিলগুলো এই আদর্শ নকশা থেকে এবং একে অপরের থেকে ভিন্ন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস (রোড আইল্যান্ড) ও প্রতিনিধি রো খান্না (ক্যালিফোর্নিয়া) প্রস্তাবিত বিলে প্রতি ব্যারেলে ৫০ শতাংশ আবগারি কর আরোপের কথা বলা হয়েছে—যা বর্তমান গড় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এবং ২০২৫ সালের গড় ৬৯ ডলারের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করবে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের গড় দাম ৮৪ ডলার ধরে হিসাব করলে প্রতি ব্যারেলে ৭.৫০ ডলার কর দিতে হবে, উৎপাদন খরচ বা লাভজনকতা নির্বিশেষে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শারম্যানের ‘ইরান ওয়ার অয়েল ক্রাইসিস উইন্ডফল প্রফিটস ট্যাক্স অ্যাক্ট’ আরও কঠোর: এতে ৭৫ ডলার প্রতি ব্যারেলের চেয়ে বেশি দামের অংশের ওপর ১০০ শতাংশ কর আরোপ হবে। জুলাইয়ের গড় দামে এটি প্রতি ব্যারেলে ৯ ডলার হবে এবং সংঘাত শেষ হয়ে দাম সেই সীমার নিচে না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উভয় বিলই দামের ওপর নির্ভরশীল, অন্তর্নিহিত মুনাফার ওপর নয়।
তৃতীয় প্রস্তাব, ‘ট্যাক্সিং বাইব্যাকস ফ্রম বিগ অয়েল উইন্ডফলস অ্যাক্ট’—যা ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন, চাক শুমার ও মাইকেল বেনেট উত্থাপন করেছেন—ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। এতে বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ার বাইব্যাকের ওপর আবগারি কর ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এটি অপ্রত্যাশিত লাভের ওপর সরাসরি কর বসানোর পরিবর্তে কোম্পানিগুলো সেই লাভ কীভাবে ব্যবহার করছে, তার ওপর লক্ষ্য রাখে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট দাবি করেছে যে এ ধরনের প্রস্তাব ‘বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা ক্ষুণ্ন করে’। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন সতর্ক করেছে যে ‘উৎপাদকদের কর আরোপ সরবরাহ সংকটের সমাধানের বিপরীত’। তবে উভয় পক্ষই নির্দিষ্টভাবে কতটা বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তা ডলারের হিসেবে দেখায়নি। বাস্তব তথ্য ভিন্ন চিত্র দেখায়: উড ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুসারে, ৪৯টি বৃহত্তম তেল ও গ্যাস কোম্পানি খাতের অপ্রত্যাশিত লাভের প্রায় ২৭২ বিলিয়ন ডলার—যা তাদের সম্মিলিত বার্ষিক বিনিয়োগ বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ—নিজেদের হাতে রাখবে। অথচ বিনিয়োগ ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত, শেয়ার বাইব্যাক কমার পথে এবং লভ্যাংশও স্থির রয়েছে। নগদ অর্থ কেবল ব্যালেন্স শিটে জমা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক গবেষণা অনুযায়ী, যখন অপ্রত্যাশিত লাভ কোনো প্রতিষ্ঠানের অন্তর্নিহিত বিনিয়োগ সুযোগকে পরিবর্তন করে না, তখন ব্যবস্থাপকরা নগদ অর্থ ধরে রাখেন এবং অপেক্ষা করেন। ২০২৬ সালে শিল্পটি অপেক্ষা করছে—যুদ্ধ কতদিন চলবে, দাম সর্বোচ্চে পৌঁছেছে কিনা এবং কংগ্রেস কর পাস করবে কিনা—এই বিষয়ে স্পষ্টতার জন্য। ফলে এমন কর যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করবে, সেই যুক্তি দিন দিন দুর্বল হচ্ছে।
এদিকে, উচ্চ ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছে।
তেল কোম্পানিগুলোর জন্য সরাসরি প্রভাব স্পষ্ট: কর হিসেবে প্রদত্ত প্রতিটি ডলার তাদের আয়ের থেকে কমে যাবে। পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণত যতটা বলা হয়, তার চেয়ে কম—কারণ বর্তমানে অপ্রত্যাশিত লাভ বিনিয়োগে ব্যবহৃত হচ্ছে না। সরকারের রাজস্বের ক্ষেত্রে, ১৯৮০ সালের অভিজ্ঞতা একটি সতর্কতা: বর্তমান দামের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত অনুমান সাধারণত প্রকৃত আদায়ের চেয়ে বেশি হয়। গ্রাহকদের জন্য, কেবল দেশীয় উৎপাদনের ওপর কর আরোপ হলে তা মূলত উৎপাদকদের ওপরই পড়ে; কিন্তু আমদানির সঙ্গে যুক্ত কর পাম্পের দাম বাড়াতে পারে। তবে রাজস্ব ব্যবহারের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়াইটহাউস-খান্না ও শারম্যান—উভয় বিলই প্রাপ্ত রাজস্ব সরাসরি পরিবারগুলোর কাছে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইটহাউস-খান্না প্রস্তাব অনুসারে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার হলে একজন একক করদাতা আনুমানিক বছরে ২১৬ ডলার পেতে পারেন—যা পাম্পের দাম বৃদ্ধি সামাল দিতে সাহায্য করবে, বিশেষত নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর জন্য, যাদের বাজেটের একটি বড় অংশ জ্বালানিতে ব্যয় হয়।
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুনাফা কোম্পানিগুলোর হাতে রাখা উচিত কিনা, এবং রাজস্ব ও বিনিয়োগের অনুমান কতটা নির্ভরযোগ্য—এই বিষয়ে মানুষের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। এগুলো কেবল অর্থনীতিবিদদের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। প্রতিবেদনের লেখক টিবর বেসেদেস জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতির অধ্যাপক। নিবন্ধটি ‘দ্য কনভার্সেশন’ থেকে ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে পুনরায় প্রকাশিত এবং মূলত ‘ফরচুন ডটকম’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।




