আগামী ২৪ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো থেকে গবাদি পশু আমদানি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডগলাস সীমান্ত ক্রসিং—যা মেক্সিকোর সোনোরা রাজ্যের আগুয়া প্রিয়েটার সঙ্গে সংযুক্ত—সেখান দিয়েই প্রথমে গবাদি পশুর প্রবেশ অনুমোদিত হবে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যদি প্রথম পর্যায়ের এই পুনরায় খোলা প্রক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কয়েকটি বন্দরের মাধ্যমে আমদানি শুরু হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম ফ্লাই’ নামক মাংসখেকো পরজীবীর বিস্তার রোধে বেশ কিছু বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে, যা সীমান্ত পারাপারে গতি কমাবে।

এই নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ ছিল উক্ত পরজীবী, যার শূককীট ক্ষতের ভেতরে ঢুকে বা ‘স্ক্রু’ করে বসে যায় বলে এর এমন নামকরণ। USDA-র প্রাণি ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন সেবার তথ্য অনুসারে, উষ্ণ রক্তের যেকোনো প্রাণী—বন্যপ্রাণী, পোষা প্রাণী এমনকি কখনো কখনো মানুষও—এই সংক্রমণের শিকার হতে পারে। মেক্সিকোতে প্রাদুর্ভাব প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে এবং বর্তমানে দেশটির ৩২টি রাজ্যের মধ্যে ৩০টিতেই এটি ছড়িয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সোনোরার মুনিহুয়াসা সম্প্রদায়ে প্রথমবারের মতো একটি ঘটনা ধরা পড়ে; চিহুয়াহুয়া ও সিনালোয়া রাজ্যের সীমান্তবর্তী এই এলাকায়ও সংক্রমণ ব্যাপক।

বর্তমানে মেক্সিকোতে সক্রিয় স্ক্রুওয়ার্ম সংক্রমণের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৯, যা এক বছর আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। কর্তৃপক্ষের মতে, এই হ্রাস নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি নির্দেশ করলেও সম্পূর্ণ নির্মূল হতে আরও সময় লাগবে। ইতিমধ্যে পরজীবীটি সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে; টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পুনরায় চালু হওয়ার পটভূমিতে নতুন মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। প্রথম সপ্তাহে দৈনিক মাত্র ৭০০টি গবাদি পশু প্রবেশের অনুমতি থাকবে; দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ৯০০-এ উন্নীত হবে এবং ধীরে ধীরে দৈনিক ১ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে সোনোরা রাজ্যের প্রাণিস্বাস্থ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পশুচিকিৎসক আর্তুরো রুইজ জানিয়েছেন। নতুন নিয়মে গরুর কানে রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) ট্যাগ লাগাতে হবে, ইলেকট্রনিক রিডার ও প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে। অ্যারিজোনায় প্রবেশের আগে USDA কর্মকর্তারা এই পরিদর্শন সম্পন্ন করবেন। মেক্সিকো এই প্রটোকল মেনে নিয়েছে, তবে স্থানীয় কিছু পশুপালক এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সোনোরার আঞ্চলিক পশুসম্পদ ইউনিয়নের সভাপতি জুয়ান কার্লোস ওচোয়া বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক জটিল মুহূর্তে রয়েছি, যখন কর্তৃপক্ষের রাজনীতির চেয়ে কারিগরি ও যুক্তিসঙ্গত চিন্তা বেশি প্রয়োজন।’ তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে নিষেধাজ্ঞা প্রথম জারি হওয়ার সময় মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে উত্তেজনার দিকেও ইঙ্গিত করেন। ওচোয়ার মতে, নতুন মার্কিন বিধিনিষেধ সরবরাহ সীমিত করছে, অথচ উভয় দেশের সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি গরু প্রবাহিত হওয়া দরকার।

ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের প্রভাব উভয় দেশেই পড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে এর তীব্রতা বেশি, বিশেষত রেকর্ড উচ্চ গরুর মাংসের দামের কারণে ভোক্তারা খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ‘গ্রুপো কনসাল্টর দে মারকাদোস এগ্রিকোলাস’-এর মহাপরিচালক জুয়ান কার্লোস আনায়া জানান, মার্কিন পশুপালকরা সরবরাহ ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গেছে এবং ফিডলট কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্ত বন্ধের আগে মেক্সিকো প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ গরু যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করত—প্রধানত উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে—যা থেকে গত বছর প্রায় ১২০ কোটি ডলার (১.২ বিলিয়ন) আয় হয়েছিল। কিন্তু খরা ও দুর্বল বাজারের কারণে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মেক্সিকান পশুপালন খাত আরও সংকটে পড়ে। রপ্তানি স্থগিত হলে দেশীয় বাজারে গরু বিক্রি করতে হয় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দামে; এই আয়ের ঘাটতিতে অনেকে কিছু গরু বিক্রি করে দিতে বা ব্যয় ও বিনিয়োগ কমাতে বাধ্য হন।

উত্তর মেক্সিকোর মরু অঞ্চলে ৫৮ বছর বয়সী পশুপালক মার্তিন আলফোনসো ইবাররা জানান, রপ্তানি বন্ধ থাকায় গত বছর তার আয় ৪০ শতাংশ কমে যায়। বর্তমানে তিনি ১৬টি মূল্যবান বাছুর লালন-পালন করছেন, যা শিগগিরই উত্তরে পাঠানোর আশা করছেন। আগস্টের তীব্র গরমে সোনোরার রাজধানী হেরমোসিল্লোতে তিনি সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী। তিনি বলেন, অক্টোবরের আগে খুব বেশি উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ততদিনে গরুগুলো পর্যাপ্ত ওজন বাড়াবে এবং বিক্রয় চূড়ান্ত করা যাবে। ‘এই পরিস্থিতি এখনো শেষ হয়নি,’—যোগ করেন তিনি। এই প্রতিবেদনটি মূলত ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত হয়েছিল।