সম্প্রতি ফরচুন সিইও ডেইলির উদ্যোগে নিউইয়র্কের ট্রাইবেকায় সিঙ্গেজ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মাইকেল হ্যানসেনের বাসভবনে একটি 'জেনারেশনস' ডিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীরা নিজেদের জেন জেড সন্তানদের নিয়ে অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল জীবন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র। অনেক সিইওর সন্তান যেহেতু নিজেদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রয়েছেন, তাই এআই ও প্রতিভা ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলি তাদের কাছে ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আলোচনাটি চ্যাথাম হাউস নিয়মে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্দিষ্ট নাম বা প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ না করলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেছেন হ্যানসেন। তার মতে, এআই বিশ্বকে বদলে দেবে কি না—এমন প্রশ্নে তরুণ প্রজন্ম বয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি স্থিরমতি ও চিন্তাশীল। তারা আতঙ্কিত হওয়ার বদলে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পছন্দ করে। হ্যানসেন, যিনি নিজের দুই ছেলেকে নিয়ে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, বলেন, 'আমি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে স্থিরচিত্ততা ও চিন্তাশীলতা দেখেছি, তাতে আমি মুগ্ধ। তারা এআই নিয়ে বড়দের চেয়ে কম আতঙ্কিত এবং বেশি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন।' তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আলোচনা প্রজন্মের মধ্যে সংলাপকে আরও মানবিক ও বাস্তব করে তোলে, যেখানে সাধারণ ব্যবস্থাপনার জার্গন বা পরিভাষার জায়গা থাকে না।

ডিনারে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ এআই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অনেকে একে একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দের বিচিত্রতা ছিল—কেউ স্টার্টআপে কাজ করছেন, কেউ নির্মাণস্থলে শ্রমিক ব্যবস্থাপনায়, আবার কেউ তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে পারিবারিক শিল্পে যুক্ত হয়েছেন, কেউ বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। আলোচনায় উত্তরাধিকার, মূল্যবোধ, দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব এবং ক্ষয়িষ্ণু রাজনীতির বিষয়ও উঠে আসে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারা অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা, ফিরিয়ে দেওয়া, রসবোধ, দৃঢ়তা ও নম্রতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

হ্যানসেনের প্রতিষ্ঠান সিঙ্গেজ একটি বৈশ্বিক শিক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি, যার বার্ষিক আয় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি কিন্ডারগার্টেন থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার কনটেন্ট, প্ল্যাটফর্ম ও সেবা সরবরাহ করে। এই ডিনার আয়োজন ফরচুন সিইও ইনিশিয়েটিভের একটি অংশ, যা দ্রুত সম্প্রসারিত নেটওয়ার্কের সম্পাদকীয় উদ্যোগের মধ্যে পড়ে। সম্প্রতি এই নেটওয়ার্কে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বুমির স্টিভ লুকাস, ইকোল্যাবের ক্রিস্টফ বেক, স্কাইস্ক্যানারের ব্রায়ান বাতিস্তা, অটোমেশন এনিহোয়ারের মিহির শুক্লা, মুডি’সের রব ফাউবার, ওয়েবার শ্যান্ডউইকের ক্যারেন পুগলিজি, সানরানের ম্যারি পাওয়েল, অ্যাথেনাহেল্থের বব সেগার্ট, এইলি ল্যাবসের বিয়াঙ্কা অ্যাঞ্জেলিনা, ওয়াকার আর্কিটেক্টসের গৌরব লোহিয়া ও রস স্কুল অব বিজনেসের নিকোলাস হ্যামিল্টন-আর্চার। এছাড়াও নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ, এডওয়ার্ড জোন্স, এইচপিই, পিএমআই, লরেল স্ট্র্যাটেজিসসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেছে।