ইরানের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এক উপদেষ্টা বলেছেন, অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি যে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে, তা অস্বীকার করেননি ওই সাবেক উপদেষ্টা। তবে তিনি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্পের ধারণার চেয়ে পরিস্থিতি অনেক জটিল এবং অর্থনীতি এখনও টিকে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়লেও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়েনি।

সাবেক এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ইরানের অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের মূল্যায়ন অতিরঞ্জিত। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে কিছু খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার কারণে কিছুটা হলেও সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে দেশটির মুদ্রার মান কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্য অবশ্য ইঙ্গিত দেয়, নিষেধাজ্ঞার চাপ সত্ত্বেও দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর।