মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, তিনি এবছরের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে বৈঠক করবেন। তবে উত্তর কোরিয়ার নেতার ছোট বোন এই বৈঠক বা কোনো যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি কিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে কিমের সাথে তাঁর বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, "আমি কিম জং-উনকে খুব ভালো করেই চিনি, তিনি ভালো থাকবেন এই আশা করি। যতদিন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুদ্ধিমানের মতো কাজ করবেন, ততদিন ভালো থাকবেন। তবে বোকামি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।"
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে চীনের শেনঝেন শহরে অ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে কিমের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে নিজের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন ট্রাম্প। তার চীন সফরকে ঘিরে এই বৈঠকটি হতে পারে বলে জানা গেছে।
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেত্রী ও কিমের বোন কিম ইয়ো-জং গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তিনি একেবারেই কিছু জানেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প এবং কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, উত্তর কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখনো একটি প্রতিপক্ষ দেশ। তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়ার প্রতি শত্রুতামূলক নীতিতে একটুও পরিবর্তন আসেনি; উল্টো তারা এবং তাদের মিত্ররা আমাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।"
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ কমিয়ে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা পূরণ করেছে, কিন্তু তারপরও সিউলে কেন এই অস্বস্তি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ট্রাম্প এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি "অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র" রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয় না, কিন্তু তিনি তা ফাঁস করে দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে কিম ইয়ো-জং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কিমের মানসিক সংযোগ রয়েছে এবং তাঁদের ভালো স্মৃতি রয়েছে। তবে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।




