প্রায় এক দশক আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত ইতালি দলকে দ্রুত পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন রবের্তো মানচিনি। তার নেতৃত্বেই ২০২১ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে অপরাজেয় হয়ে উঠেছিল দলটি, যা টানা ৩৭ ম্যাচের রেকর্ড স্পেন ভেঙে দেয়। এখন দ্বিতীয়বারের মতো স্বদেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। টানা তিনবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়া দলটিকে আবারও শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চার বছরের চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মানচিনি বলেন, "আমরা চার বছরের জন্য একমত হয়েছি এবং আমি বিশ্বাস করি দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি উপহার দিতে সক্ষম হব। সম্ভবত দুটিও জেতানো সম্ভব, এবং তারপরও আমরা সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।" তিনি স্বীকার করেন, ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে সৌদি আরবের কোচ হওয়ার কারণে সমর্থকদের মন জয় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। "আমি দলটিকে এমন একটি আকর্ষণীয় ও সুন্দর ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করব যাতে সমর্থকরা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং তখন তারা হয়তো আমার আগের সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দেবে। আমি সেটাই আশা করি," যোগ করেন তিনি।
বর্তমান ইতালি দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই বলে মনে করেন মানচিনি। তার মূল কাজ হবে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী দল গড়ে তোলা। এছাড়া তিনি দেশের ক্লাবগুলোকে তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় দলের কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রথমে কার্লো আনচেলত্তির কাছে প্রস্তাব গিয়েছিল, কিন্তু তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন। এরপর পেপ গুয়ার্দিওলার নাম নিয়ে জোর আলোচনা হলেও তিনিও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিছুদিন আন্দ্রেয়া পিরলোর নাম শোনা গেলেও রাশিয়ার একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় সেই প্রক্রিয়া বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত মানচিনির নাম সামনে আসে এবং দ্রুত সবকিছু চূড়ান্ত হয়।
বছরের পর বছর ব্যর্থতার কারণে অনেক সমর্থক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সমর্থকদের মন জয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে মানচিনি বলেন, "দুটি জিনিস আমি খুব চাই। প্রথমত, ইতালীয় সমর্থকরা যেন আবার জাতীয় দলকে ভালোবাসে। দ্বিতীয়ত, আমার ১২ বছরের নাতির মতো যারা কখনও ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি, তাদের সেই সুযোগ করে দেওয়া।" দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে নেশন্স লিগে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ। এরপর বোলোনিয়ায় তুরস্কের বিপক্ষে আরেকটি হোম ম্যাচ খেলবে ইতালি। এদিকে, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদ থেকে পাওলো মালদিনি হঠাৎ সরে দাঁড়ালে তার জায়গায় অভিজ্ঞ কোচ ক্লাওদিও রানিয়েরিকে নিয়োগ দিয়েছেন ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি মালাগো।




