একটি ব্যঙ্গধর্মী আয়োজনে এবারের ‘সেরা ফেসবুক সাংবাদিক ২০২৬’ পুরস্কারের জন্য তিনজনের নাম মনোনীত করা হয়। তাঁরা হলেন—আজগরুদ্দিন মুন্সি, মোখলেস মিয়া ও বরকতালি খন্দকার। এই তিনজনের মধ্যে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় মোখলেস মিয়াকে। তাঁর তৈরি ভিডিও ‘মেট্রোরেলে ছেলে-মেয়ের হাত ধরাধরি, দেশ কি তাহলে রসাতলে গেল?’ ৮০ হাজার ভিউ ও ৫৬ হাজার শেয়ার অর্জন করে। অপর দুই মনোনীতের মধ্যে আজগরুদ্দিন মুন্সির ভিডিও ‘গুলশানের পাগলি পারুল কি পারবে ফুল বিক্রি করে বিদেশ যেতে?’ ৬৯ হাজার ভিউ ও ৯০ হাজার শেয়ার পায়। বরকতালি খন্দকারের ‘দুপুরের কড়া রোদের নিচে নাচ-গানে মত্ত হলো একদল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দেখুন ভিডিওসহ’ শিরোনামের ভিডিওটি ১.৫ মিলিয়ন ভিউ পেলেও শেয়ারের সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী মোখলেস মিয়াকে তাঁর অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘খুশিতে পাগল পাগল লাগছে আমার। আমি এই অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করতে চাই আমার বাবাকে। কারণ, তিনিই আমাকে ভালো ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল কিনে দিয়েছিলেন। ভালো ক্যামেরা থাকার কারণে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে জুম করে এই ভিডিওটি করেছিলাম।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকের এই পুরস্কার আমাকে সামনে মানুষের প্রাইভেসি নষ্ট করতে আরও উদ্বুদ্ধ করবে।’ শেষে তিনি সবার কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ছোট, আমাদের মারবেন না। একটু যা-তা ভিডিও করি বলে আমাদের নিয়ে কটু কথা বলবেন না, প্লিজ। আমরাও তো আপনাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদেরই একজন।’
উল্লেখ্য, এই আয়োজনটি মূলত ফেসবুক সাংবাদিকতা নামে পরিচিত একটি ধারাকে ব্যঙ্গ করার জন্য করা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে ভিডিও ধারণ করে ভিউ ও শেয়ার বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সাংবাদিক রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, অদ্ভুত কোণ থেকে ভিডিও ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ভিউয়ের সংখ্যা ও শেয়ার, যা তারা ‘ভিউ ব্যবসা’ বলে আখ্যা দেন।




