জনপ্রিয় অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রায় সাড়ে ১৫ মাস যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছাবেন। রোববার গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী ও জামাতাকে নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেননি। পরে চিকিৎসক জানান, এটি ব্রেন ক্যানসার।

অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে ওরাল থেরাপি নিতে হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষে দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপ মিলিয়ে মোট প্রায় শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। লিটন এরশাদ বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন অস্থির হয়ে ওঠেন। দেশে ফেরার জন্য তাঁর মন টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ায় কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর ইচ্ছাতেই তাঁকে দেশে আনা হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় এবং উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে, তার আগে কিছুদিন দেশে কাটাতে চান তিনি।

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি, যা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। ইলিয়াস কাঞ্চন এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও তাঁর কষ্ট হয়। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।