হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভাঙ্গী আত্রে দীর্ঘ ২২ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টানার পেছনে স্বামী পীযূষ পুরের অ্যালকোহল-আসক্তিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়!’ ধারাবাহিকে ‘অঙ্গুরি ভাবি’ চরিত্রে পরিচিত এই অভিনেত্রী সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানান, সংসার ধ্বংসের জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।
শুভাঙ্গী জানান, বৈবাহিক জীবনের প্রারম্ভে পীযূষের আসক্তির ব্যাপকতা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পীযূষ মদ্যপান করলেও অনেক সময়ই তা লুকিয়ে রাখতেন, ফলে ক্লান্তি নাকি নেশা, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ত। ‘ওকে দেখে মনে হতো হয়তো খুব ক্লান্ত বা ঘুম পাচ্ছে, কিন্তু পরে এর প্রভাব শরীরে পড়তে শুরু করল,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভাঙ্গী আরও বর্ণনা করেন যে, ধীরে ধীরে পীযূষের কাজের প্রতি অনীহা জন্মে ও তিনি খিটখিটে স্বভাবের হয়ে ওঠেন, যদিও কখনও কোনও রকম দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেনি।
অভিনেত্রীর মতে, ২০১৮-১৯ সালের পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে এবং তখন থেকেই তাদের সম্পর্কের ক্রমশ অধঃপতন শুরু হয়। তিনি উপলব্ধি করেন যে, একটি সুস্থ সম্পর্কের মতো করে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না এই দাম্পত্যকে। ‘আমার কাছে বিবাহ মানে শুধু একসাথে থাকা নয়, আধ্যাত্মিক, মানসিক ও ব্যক্তিগতভাবে একসাথে এগিয়ে চলা। ও যখন নিজের উন্নতি আর সুখের জন্য কাজ করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলল, তখনই বুঝেছিলাম এ সম্পর্ক আর স্বাভাবিক নেই,’ শুভীর মন্তব্য।
সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি পীযূষকে পুনর্বাসনকেন্দ্রেও পাঠান, কিন্তু কোনো ফলাফল হয়নি। প্রায় দুই বছর ধরে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিলেন এই দম্পতি। শুভীর বর্ণনায়, পেশাদার জীবনের সফলতা লাভ করেই তিনি স্বামীকে পরিত্যাগ করেছেন, এমন ধারণা পুরোপুরি মিথ্যা। তার মতে, পুরো সংসারের আর্থিক দায়িত্ব একদা তার উপরেই বর্তায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ২২ বছরের এই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। আর এর মাত্র দুই মাস পর, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে পীযূষ পরলোকগমণ করেন।


