শিক্ষকতা পেশায় নানা রকম মজার ও চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা থাকে। তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিস, দুই বোন শিক্ষিকা, তাদের ক্লাসরুমের কিছু ঘটনা শেয়ার করেছেন যা শুনে হাসি ও ভাবনা দুই-ই জাগে।

জেনিফার মিসের ক্লাসে গণিতের সারপ্রাইজ টেস্ট চলছিল। তিনি বোর্ডে অঙ্ক লিখে 'সমাধান করো' লিখেছিলেন। হিন্দোল নামের এক ছাত্র তার খাতায় লিখেছিল, 'নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করেন। কত দিন আর এভাবে নিজের সমস্যা ছাত্রদের দিয়ে সমাধান করাবেন? আপনি তো অঙ্কই ভুলে যাবেন একদিন!' এই ঘটনায় জেনিফার মিস রেগে গিয়ে তাসনিয়া মিসের কাছে এসেছিলেন।

তাসনিয়া মিস তাকে শান্ত করে নিজের তিনটি অভিজ্ঞতা শোনান। প্রথম ঘটনায়, তাসনিয়া মিস বল্টুকে জিজ্ঞেস করেন 'ফোর্ড কী?' বল্টু উত্তর দেয় 'গাড়ি'। তারপর 'অক্সফোর্ড কী?' জানতে চাইলে বল্টু বলে 'গরুর গাড়ি'। দ্বিতীয় ঘটনায়, তাসনিয়া মিস বলেন লেখাপড়া ছাড়া ডিগ্রি লাভ করা যায় না। বল্টু এর বিপক্ষে মত দিয়ে বলে থার্মোমিটার লেখাপড়া না জেনেও ডিগ্রি রাখে। তৃতীয় ঘটনায়, 'হাসা'র ইংরেজি প্রতিশব্দ জানতে চাইলে বল্টু 'লাফ' বলে, এবং 'হাসাহাসি'র ইংরেজি 'লাফালাফি' বলে।

এসব শুনে জেনিফার মিস বুঝতে পারেন যে তিনি একা নন, তার মতো আরও শিক্ষকেরা এমন মজার পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরে, ভোট দেওয়ার দিন তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিস ভোট দিতে যান। তাসনিয়া মিস প্রস্তাব দেন যে তিনি 'কুলা' মার্কায় ভোট দেবেন এবং জেনিফার মিস 'মুলা' মার্কায়, ফলে তাদের ভোট কাটাকাটি করে সমান হবে। তারা বাড়ি ফিরে যেতে থাকেন, কিন্তু পথে সন্টুর সঙ্গে দেখা হয়। সন্টু জানায় যে সে এই ভোট কাটাকাটির কৌশল ব্যবহার করে চারজনের সঙ্গে খেলা খেলেছে। পরে তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিস ভোট দিতে যান এবং সন্টুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।

ক্লাসে ফিরে জেনিফার মিস ছাত্রদের জিজ্ঞেস করেন তাদের প্রিয় ব্যক্তি কে। বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজনের নাম বলে। হিন্দোল বলে তার প্রিয় ব্যক্তি জেনিফার মিস নিজেই, কারণ তাকে দেখে ভয় লাগে না এবং তিনি রাগ করেন না। জেনিফার মিস খুশি হয়ে হিন্দোলকে জিজ্ঞেস করেন বড় হয়ে কী হবে। হিন্দোল বলে লেখক হবে। জেনিফার মিস তাকে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদের বই পড়ার কথা জিজ্ঞেস করেন। হিন্দোল সব প্রশ্নের উত্তর 'না' দিয়ে জানায় সে লেখক হতে চায়, পাঠক নয়।

অঙ্ক ক্লাসে জেনিফার মিস হিন্দোলকে জিজ্ঞেস করেন, 'একজনের এক হাতে দশটা আপেল, আরেক হাতে দশটা আপেল, তাহলে পুরোটা মিলে কী পাওয়া গেল?' হিন্দোল উত্তর দেয়, 'পুরোটা মিলে এটাই পাওয়া গেল যে ওই ব্যক্তির হাত খুব বড়, যার এক এক হাতে দশটা করে আপেল আটতে পারে।' এই ঘটনা তাসনিয়া মিসকে জানানোর পর, তাসনিয়া মিস তার নিজের একটি ঘটনা বলেন। ক্লাসে নাম ডাকার সময় তাসনিয়া মিস 'পল্টু' ডাকলে উত্তর আসে 'ইয়েস মিস', কিন্তু পল্টুকে দেখা যায় না। বল্টু জানায় পল্টু ক্লাসে নেই, তবে গতকাল বাড়ি যাওয়ার সময় তার গলার আওয়াজ ক্লাসে রেখে গেছে।

এই দুই ঘটনার পর জেনিফার মিস ও তাসনিয়া মিস মনের দুঃখে বনবাসে চলে যান। সেখানে তারা তাদের ক্লাসের স্মৃতি মনে করেন। তাসনিয়া মিস বলেন, একদিন তিনি বল্টুকে খাতা বের করতে বলেন, কিন্তু বল্টুর কাছে খাতা নেই। বল্টু জানায়, খাতা বাসায় মায়ের আলমারিতে খুব নিরাপদ জায়গায় রেখেছে, যা সবার ক্ষমতার বাইরে।

জেনিফার মিসের ক্লাসে হিন্দোল রিমিকে ফিসফিস করে কিছু বলে। জেনিফার মিস বলেন, কিছু জানার থাকলে তাকে জিজ্ঞেস করতে। হিন্দোল তখন জিজ্ঞেস করে, 'মিস, আজ রাতে কি আপনি আমার সঙ্গে সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখতে যাবেন?' জেনিফার মিস জানতে পারেন যে হিন্দোল রিমিকেই এই প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু নির্দেশনার কারণে সে জেনিফার মিসকেই প্রশ্নটি করে ফেলে।

বনবাসে থাকতে না পেরে তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিস ফিরে আসেন। ফেসবুকে তাদের নিয়ে একটি পোস্ট লেখার পর একজন আপা মন্তব্য করেন যে তিনি শিক্ষকদের নিয়ে কৌতুক পছন্দ করেন না। লেখক সিদ্ধান্ত নেন আর তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিসকে নিয়ে ফেসবুকে লিখবেন না।

এদিকে, বল্টু ও হিন্দোল ইশকুলে না গিয়ে রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টে বসে মেসেজ, স্ট্যাটাস ও কমেন্ট পড়ছে। তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে তাসনিয়া মিস ও জেনিফার মিস নেই, তাই ইশকুল ও পাঠ্যবই থাকলেও না থাকলেও একই কথা।