মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) রবিবার ঘোষণা দেয় যে বিদেশি হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে না। আইআরআইবি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সতর্কীকরণ গুলি চালিয়ে একটি মালবাহী জাহাজ থামিয়ে দেওয়া হয়, কারণ ওই জাহাজ তাদের নির্দেশ অমান্য করে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। ফার্স সংস্থা আরও জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী ‘অননুগত’ আরেকটি জাহাজেও হামলা চালিয়ে সেটি আটকে দিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ঘোষণার বিপরীতে অবস্থান জানিয়েছে যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (JMIC)। সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের দাবি সত্ত্বেও প্রণালীটির দক্ষিণ অংশ, যা ওমানের উপকূল বরাবর বিস্তৃত, সেখানে জাহাজ চলাচলের পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে তারা প্রণালীটিতে হুমকির মাত্রাকে ‘গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নাবিকদের উদ্দেশে দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর কাছ থেকে রেডিও বার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মাইন বিস্ফোরণের বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য অপরিহার্য। এই জলপথ নিয়ে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। মার্কিন বাহিনী রবিবার রাতে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ইরানে হামলা চালায়। এর আগে ওমান উপকূল থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দূরে একটি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে জাহাজে আগুন লেগে যায় এবং ক্রুদের তা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ওই জাহাজের ক্রুদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করলেও ভারত জানিয়েছে, তাদের এক নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ মার্কিন মিত্র অন্তত পাঁচটি দেশে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলা গত মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে। রবিবার প্রণালীটিতে জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্য পর্যায়ে নেমে এসেছিল; মাত্র দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে জলপথটির দিকে আসতে দেখা গেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যালয় (UKMTO) জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজের ক্রুরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে ভারতীয় নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী হয়ে জাহাজ চলাচল ভবিষ্যতে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


