ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী ও এক পুরুষ। এ ঘটনায় আরেক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টিরাজ ফিডের ডিপোতে মালামাল খালাস করে ট্রাকটি মহাসড়কে ওঠার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়, অন্যদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারী মারা যান। নিহতরা হলেন তারাকান্দা উপজেলার দাদরা গ্রামের শিলা আক্তার (২৫), সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের আবেদা খাতুন (৩৫) ও নগরীর জুবলি ঘাটের দেবরাজ ঘোষ (৩৫)। আহত তানিয়া সুলতানা (২০) প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ মাহমুদ জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় পুরুষ আরোহীর নিঃশ্বাস চলছিল, কিন্তু রাস্তার পাশে সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তিন নারীকে পিকআপ ভ্যানে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা হারিছ উদ্দিন অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক গাড়িতে ছিলেন না; বরং চালকের সহকারী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁর মতে, সহকারীর অনভিজ্ঞ চালনার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও সহকারী উভয়েই পলাতক। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের পছন্দমতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাকটি চালকের বদলে সহকারী চালাচ্ছিলেন কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে। পুলিশ পলাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঘটনাস্থলে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি জড়ো হয়ে থাকা লোকজন ঘিরে রাখে। পরে ভ্যানগাড়িতে করে এটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।