শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছিল। শিশুটির পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার পর সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি স্থানীয় মাদ্রাসায়। মোস্তাক হোসেন (৩০) নামের ওই শিক্ষক প্রায় এক মাস আগে ওই মাদ্রাসায় যোগ দিয়েছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে ক্লাস শেষে মাদ্রাসার এক তরুণ শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যেতেন মোস্তাক। গত রোববার ক্লাস শেষে তিনি সেই কক্ষে শিক্ষার্থীটিকে নিয়ে যান এবং তাকে যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। এরপর শিশুটি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনের ঘটনা জানায়।

ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার সন্ধ্যায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসায় গিয়ে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে এবং গণধোলাই দেয়। এই সময় তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই মাদ্রাসা থেকে মোস্তাক হোসেনকে আটক করে শিবচর থানায় নিয়ে আসে। থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তার ছেলের সঙ্গে একজন মাদ্রাসাশিক্ষক এমন জঘন্য আচরণ করতে পারে। তিনি যেকোনো মূল্যে ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। তার মতে, ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি মামলা করেছেন।

ওসি কামাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনানুগ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।